চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনের পরিকল্পনা: সেতুমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার
সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও বাণিজ্যিক রুট চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, এই মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে এবং পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, হাইওয়ে ইম্প্রুভমেন্ট ফেজ-ওয়ান প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের একটি অংশ চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার অংশ চার লেনে প্রশস্তকরণের কাজ নেওয়া হয়েছে, যা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অংশের কাজ ২০২৯ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পের মধ্যে প্রায় ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার ফ্লাইওভার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের বাকি প্রায় ৪৮ কিলোমিটার অংশের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা অর্থাৎ জাইকা-এর সঙ্গে অর্থায়ন বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে পুরো মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করা।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। পর্যটন, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের জন্য এই রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপও কয়েকগুণ বেড়েছে।

মন্ত্রী সংসদে বলেন, এই মহাসড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, যা উদ্বেগজনক। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ঝুঁকিপূর্ণ মোড় সংস্কার এবং কিছু অংশে অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি বহুদিন ধরেই স্থানীয় জনগণ, পরিবহন মালিক ও পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়ে আসছে। তাদের মতে, বর্তমান দুই লেনের সড়কটি ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ সামলাতে পারছে না। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে দীর্ঘ যানজট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মহাসড়ক উন্নয়নের জন্য অতীতে একাধিক সমীক্ষা পরিচালিত হয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এই সড়ক নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা করে। ওই প্রতিবেদনে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যয় ধরা হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণ ব্যয় ও প্রকল্প নকশায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলে শুধু চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পর্যটন খাত আরও বিকশিত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়বে এবং আঞ্চলিক সংযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার হার কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন যে, শুধু সড়ক সম্প্রসারণই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি সঠিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। তা না হলে অবকাঠামো উন্নয়ন সত্ত্বেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি পুরোপুরি কমানো সম্ভব হবে না।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ঘিরে সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডর হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, চার লেন প্রকল্পটি শুধু একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং আঞ্চলিক উন্নয়ন, পর্যটন সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি বৃহৎ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন অপেক্ষা এর দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত