প্রকাশ: ২২ জুলাই ‘ ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক ।একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দেশজুড়ে চলমান শোক আর বিক্ষোভের আবহে আগামী ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এক সমাবেশে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এই ঘোষণা দেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। তিনি জানান, “২৪ জুলাইয়ের এইচএসসি পরীক্ষাটি পরবর্তীতে নির্ধারিত তারিখে, নিয়মিত পরীক্ষার শেষে অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যথাসময়ে অবহিত করা হবে।”
সোমবার রাতে হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা এলে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বিষয়টি জানতে না পেরে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে যান। পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে তারা জানতে পারেন, পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা ও বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকাল থেকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বিক্ষোভে নামে শিক্ষার্থীরা। অগ্নিকাণ্ডে সহপাঠী ও শিক্ষককে হারানো এই শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন, যা ইতোমধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ‘সম্পূর্ণ যৌক্তিক’ বলে স্বীকৃতি পেয়েছে।
সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো আমলে নেওয়া হয়েছে, এবং বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুপুরে কলেজের ৫ নম্বর ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, যিনি সরাসরি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন যে তাঁদের প্রত্যেকটি দাবিই মানা হবে।
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবিগুলো হলো—
১. নিহতদের পূর্ণাঙ্গ নাম ও পরিচয় প্রকাশ
২. আহতদের সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ
৩. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যারা অসদাচরণ করেছে, তাদের নিঃশর্ত ক্ষমা
৪. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ
৫. ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণ প্লেন বাতিল
৬. সামগ্রিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সংস্কার
এই দাবিগুলোর পেছনে রয়েছে গভীর ক্ষোভ, বেদনা ও নিরাপত্তাহীনতার বাস্তব উপলব্ধি। শুধু পরীক্ষা স্থগিত নয়, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আজ একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে এসেছে—আমরা কতটা নিরাপদ?
একটি দুর্ঘটনা এক ঝাঁক তরুণ জীবনের গতিপথ থামিয়ে দিলো। কিন্তু এই ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি। শিক্ষার্থীরা কেবল ক্ষতিপূরণ নয়, চায় কাঠামোগত পরিবর্তন—তারা চায় নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা।
এই আন্দোলন আর দাবি যেন কেবল প্রতিশ্রুতি কিংবা আশ্বাসে থেমে না যায়—এটাই এখন সময়ের দাবি।
দেশের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে উচ্চারিত এই দাবিগুলোর বাস্তবায়ন জরুরি।
তবেই হয়তো এই ব্যথা কিছুটা উপশম পাবে, আর আমরা বলতে পারবো—এই বেদনা আমাদের কিছু শিখিয়েছে।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন