দেশের ৯৪.৭০% পোশাক কারখানায় ঈদ বোনাস পরিশোধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
দেশের ৯৪.৭০% পোশাক কারখানায় ঈদ বোনাস পরিশোধ

প্রকাশ: ২৫ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের তৈরি পোশাক খাতে ঈদকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের বোনাস পরিশোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির সর্বশেষ তথ্যমতে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু থাকা মোট পোশাক কারখানার ৯৪ দশমিক ৭০ শতাংশ ইতোমধ্যে ঈদ বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন করেছে।

বিজিএমইএ’র সোমবার (২৫ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশের প্রধান দুই শিল্পাঞ্চল ঢাকা ও চট্টগ্রামে বর্তমানে মোট ২ হাজার ১৩৩টি পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২১টি কারখানা শ্রমিকদের ঈদ বোনাস প্রদান করেছে। এই পরিসংখ্যানকে সংগঠনটি শিল্প খাতের স্বাভাবিক ও দায়িত্বশীল কার্যক্রমের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় চালু থাকা ১ হাজার ৭৯৪টি কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৭০৯টি কারখানা বোনাস পরিশোধ করেছে। একইভাবে চট্টগ্রামে চালু থাকা ৩৪০টি কারখানার মধ্যে ৩১২টি কারখানা শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দিয়েছে। শিল্প মালিকদের এমন উদ্যোগকে শ্রমিকদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং উৎসবকালীন স্বস্তি নিশ্চিত করার প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ ছাড়া এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রেও প্রায় শতভাগ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিজিএমইএ জানিয়েছে, মোট ২ হাজার ১১৭টি কারখানা ইতোমধ্যে এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করেছে, যা মোট চালু কারখানার ৯৯ দশমিক ২০ শতাংশ। এই তালিকায় ঢাকার ১ হাজার ৭৮৩টি এবং চট্টগ্রামের ৩৩৪টি কারখানা রয়েছে।

তবে মে মাসের অগ্রিম বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রে অগ্রগতি তুলনামূলকভাবে কম। বিজিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৭৬৭টি কারখানা শ্রমিকদের মে মাসের অগ্রিম বেতন দিয়েছে, যা মোট কারখানার ৩৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের আগে ধাপে ধাপে এ সংখ্যাও বাড়বে।

শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের পাশাপাশি ঈদযাত্রা নিয়েও কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সমন্বিত প্রস্তুতি চলছে। বিজিএমইএ জানিয়েছে, ২৪ মে ঢাকা থেকে ১০৮টি কারখানার শ্রমিকরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন। আগামী দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২৫ মে আরও ৬৬৪টি কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা ছাড়বেন, ২৬ মে ৭৭১টি কারখানার শ্রমিকরা এবং ২৭ মে আরও ২৫১টি কারখানার শ্রমিকরা ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা দেবেন। ফলে রাজধানী ও শিল্পাঞ্চল এলাকায় ধীরে ধীরে শ্রমিক উপস্থিতি কমে আসবে এবং ঈদ উপলক্ষে একটি বড় আকারের জনপ্রবাহ দেখা দেবে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোশাক খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হওয়ায় এই খাতে শ্রমিকদের সময়মতো বেতন ও বোনাস প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ খাতের ওপর নির্ভর করে দেশের বড় একটি অংশের কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়। তাই উৎসবকালীন সময়ে উৎপাদন ও শ্রমিক কল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা শিল্পের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন।

বিজিএমইএ আরও জানিয়েছে, এবারের ঈদ মৌসুমে শ্রমিকদের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষ ব্যাপকভাবে সচেষ্ট রয়েছে। অনেক কারখানাই আগেভাগে বেতন ও বোনাস পরিশোধ করে দিয়েছে, যাতে শ্রমিকরা নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বেতন ও বোনাস পরিশোধ পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে কিছু ছোট ও মাঝারি কারখানায় এখনও বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন না হওয়ায় সেখানে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, পোশাক খাতে সময়মতো বেতন ও বোনাস পরিশোধ শুধু শ্রমিকদের জন্য স্বস্তি নয়, বরং এটি শিল্পে শৃঙ্খলা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করে। বিশেষ করে বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে দেশের তৈরি পোশাক খাতের ইতিবাচক ইমেজ বজায় রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সব মিলিয়ে, ঈদকে সামনে রেখে দেশের পোশাক খাতে বেতন ও বোনাস পরিশোধে সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখা গেলেও অগ্রিম বেতন প্রদানের হার এখনও তুলনামূলক কম। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ঈদের আগেই অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকদের সব ধরনের পাওনা পরিশোধ সম্পন্ন হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত