প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে সংরক্ষিত নারী আসনকে কেন্দ্র করে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলের মনোনয়ন পেয়েছেন জীবা আমিনা আল গাজী। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সভাপতি এবং ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সক্রিয় সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এই নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি আবারও নারী নেতৃত্বের প্রতি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জীবা আমিনার নাম ঘোষণা করেন। এ সময় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং মনোনয়ন ঘোষণার পর তাকে অভিনন্দন জানান।
এই মনোনয়ন প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। গত ১৭ এপ্রিল থেকে বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু করে। দলের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে আবেদনকারীদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সংগঠনে অবদান এবং জনসম্পৃক্ততা যাচাই করেন। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা পড়ে সাত শতাধিক আবেদন, যা এই আসনের গুরুত্ব ও প্রতিযোগিতার মাত্রা স্পষ্ট করে।
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, জীবা আমিনা আল গাজীর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি তার অবিচল আনুগত্য এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ঝালকাঠি অঞ্চলে তার রাজনৈতিক উপস্থিতি এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
জীবা আমিনা এর আগে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সময় তাকে একাধিকবার হামলার মুখে পড়তে হয়। সে সময়ের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যান, যা তার রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও সাহসিকতার পরিচয় বহন করে।
মনোনয়ন পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় জীবা আমিনা আল গাজী বলেন, তিনি সবসময় দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন এবং কখনো দল ও নেতাকর্মীদের ছেড়ে যাননি। তিনি জানান, এই মনোনয়ন তার জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি এটি একটি বড় দায়িত্বও। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সংসদে গেলে তিনি ঝালকাঠির মানুষের উন্নয়ন এবং নারীদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
তিনি আরও বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে তারেক রহমান-এর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তার প্রতি এই আস্থা রাখার মাধ্যমে দল তাকে আরও বড় দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দলের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০টি, যা নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। এই আসনগুলো সরাসরি ভোটে নির্বাচিত না হয়ে দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিতে বণ্টিত হয়। ফলে দলগুলোর জন্য এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগতভাবে পরিচালিত হয়।
আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিএনপির এই মনোনয়ন ঘোষণা সেই প্রস্তুতিরই একটি অংশ, যা দলটির সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে, তা দলটির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের একটি প্রতিফলন। বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়া সহজ কাজ নয়, তবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলটি যোগ্য নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছে।
এদিকে, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও এই মনোনয়ন নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, জীবা আমিনা আল গাজীর মতো একজন পরীক্ষিত নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া দলের জন্য একটি সঠিক সিদ্ধান্ত। এতে করে নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন আরও এগিয়ে যাবে এবং মাঠপর্যায়ে দলের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।
সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসনে জীবা আমিনা আল গাজীর মনোনয়ন শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি নারীর ক্ষমতায়ন, দলীয় আনুগত্য এবং সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে আগামী নির্বাচনের দিকে, যেখানে এই মনোনয়ন কতটা বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিই হবে মূল আলোচনার বিষয়।