প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক ও দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার কাফু মনে করছেন, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জন্য আবারও শিরোপা জয়ের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। সোমবার মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত লরেয়াস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ফুটবল ক্যারিয়ারে দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া কাফু ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইতালির বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে জয় এবং ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে ব্রাজিলের অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা জয়ের স্মৃতি স্মরণ করেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মনে করছেন, বর্তমান সময়টি ব্রাজিলের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
কাফু বলেন, শেষবার বিশ্বকাপ জয়ের ২৪ বছর পর আবারও ব্রাজিলের সামনে শিরোপা জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার মতে, দলীয় শক্তি, নতুন প্রজন্মের প্রতিভা এবং অভিজ্ঞ কোচের সমন্বয়ে ব্রাজিল এখন এমন অবস্থানে রয়েছে যেখানে তারা আবারও বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে।
তিনি বিশেষভাবে নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। কাফু বলেন, আনচেলত্তি একজন অভিজ্ঞ ও ধারাবাহিকভাবে সফল কোচ, যিনি বিভিন্ন ক্লাবে শিরোপা জিতেছেন। তার মতে, এই অভিজ্ঞতা ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। আনচেলত্তির নেতৃত্বে দলটি আরও সংগঠিত ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কাফুর মতে, ব্রাজিলের বর্তমান দল ইতোমধ্যেই আক্রমণভাগ ও মধ্যমাঠে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এখন মূল লক্ষ্য হলো রক্ষণভাগকে আরও দৃঢ় করা। তিনি বলেন, যদি ব্রাজিল রক্ষণে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারে এবং সহজে গোল না খায়, তাহলে প্রতিটি ম্যাচে অন্তত একটি গোল করেই জয় নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তরুণ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নিয়েও আশাবাদী কাফু। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপ এমন একটি মঞ্চ যেখানে একজন খেলোয়াড় নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন এবং সব বিতর্ক পেছনে ফেলে দিতে পারেন। কাফুর ভাষায়, আটটি ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করলে ভিনিসিয়ুস পুরো বিশ্বকে দেখাতে পারবেন তিনি কী ধরনের প্রতিভা।
ভিনিসিয়ুস সম্প্রতি ব্রাজিলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অ্যাসিস্ট করেছেন এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন। কাফু মনে করেন, তার গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণভাগে প্রভাব ব্রাজিলের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে কাফু আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে গেছে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শীর্ষ দলগুলো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে ব্রাজিলের ঐতিহ্য ও খেলোয়াড়দের মানসিকতা তাদের আলাদা করে রাখে।
তিনি আরও বলেন, বাজি প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসেবে বর্তমানে স্পেনকে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে ধরা হলেও ব্রাজিল সবসময়ই বিশ্বকাপে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকে। তার মতে, ফুটবলে অভিজ্ঞতা, ঐতিহ্য এবং মানসিক দৃঢ়তা বড় ভূমিকা রাখে, যা ব্রাজিলের রয়েছে।
বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায়। এই ভিন্ন কন্ডিশন ও বড় টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোই হবে দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কাফু মনে করেন, ব্রাজিল যদি পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারে, তাহলে তাদের সামনে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, কাফুর মতো কিংবদন্তির এই ধরনের মন্তব্য ব্রাজিল দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এটি অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে।
সব মিলিয়ে কাফুর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি ব্রাজিলের বর্তমান দল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আশাবাদী। তার বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি সোনালি অধ্যায়ের সূচনা।