প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও আলোচনায় অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ক। কাঁধ ও কনুইয়ের চোট কাটিয়ে তিনি চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-এ ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতে ভ্রমণের অনুমতি ইতোমধ্যেই পেয়েছেন এই তারকা পেসার এবং সবকিছু ঠিক থাকলে মে মাসের শুরুতেই মাঠে দেখা যেতে পারে তাকে।
ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এই খবর নিঃসন্দেহে স্বস্তির। কারণ গত কয়েক মাস ধরে স্টার্ক মাঠের বাইরে থাকায় তার ভক্তরা ছিলেন অপেক্ষায়। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১ মে জয়পুরে দিল্লি ক্যাপিটালস-এর হয়ে রাজস্থান রয়্যালস-এর বিপক্ষে ম্যাচের আগেই দলে যোগ দেবেন তিনি। যদিও তার খেলা পুরোপুরি নির্ভর করছে ফিটনেস পরীক্ষার ওপর, তবে ইতিবাচক অগ্রগতি আশাবাদী করে তুলেছে দল ও সমর্থকদের।
৩৬ বছর বয়সী স্টার্কের সাম্প্রতিক সময়টা ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। বছরের শুরুতে অ্যাশেজ সিরিজে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করেছিলেন কেন তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার। সেই সিরিজে ৩১ উইকেট নিয়ে ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ হন তিনি এবং পাঁচটি টেস্টে টানা বল করে নিজের ফিটনেস ও দক্ষতার অনন্য উদাহরণ রাখেন। এই পারফরম্যান্স তাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে এবং বিশ্ব ক্রিকেটে তার অবস্থান আরও শক্ত করে।
অ্যাশেজের পরপরই তিনি অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে অংশ নেন। সিডনি সিক্সার্স-এর হয়ে খেলতে নেমে দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু সাফল্যের সেই ধারাবাহিকতার মাঝেই আসে বড় ধাক্কা। পার্থ স্কর্চার্স-এর বিপক্ষে এক ম্যাচে ক্যাচ ধরতে গিয়ে পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পান তিনি। বাম কাঁধ ও কনুইয়ে আঘাত পাওয়ায় তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হয় দীর্ঘ সময়।
চোটের পর ফেব্রুয়ারিতে ধীরে ধীরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করেন স্টার্ক। প্রথমদিকে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও বোলিংয়ে ফিরে ব্যথা অনুভব করায় তাকে আরও সতর্ক থাকতে হয়। এই কারণেই আইপিএলের শুরুর দিকে তাকে দলে পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্টার্ক নিজেই সেই বিভ্রান্তি দূর করেন এবং নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানান। একই সঙ্গে তাকে ঘিরে ছড়ানো ভুল তথ্য নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। সিডনিতে অনুশীলনের সময় তিনি ব্যথামুক্তভাবে বোলিং করতে পেরেছেন বলে জানা গেছে। গত এক সপ্তাহের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচিং স্টাফ এবং চিকিৎসক দল। ফলে তার আইপিএলে ফেরার পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, খুব শিগগিরই তিনি ভারতে পৌঁছাবেন এবং দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেবেন।
দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্য স্টার্কের এই প্রত্যাবর্তন হতে পারে বড় শক্তি। টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অভিজ্ঞ এই পেসারের উপস্থিতি দলকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ডেথ ওভারে তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং সুইং করার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতামূলক আসরে স্টার্কের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টের মান আরও বাড়িয়ে দেয়। দর্শকরাও অপেক্ষায় থাকেন এমন ম্যাচ দেখার, যেখানে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার লড়াই জমে ওঠে। স্টার্কের প্রত্যাবর্তন সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মে মাসের শুরুতেই আবার মাঠে নামবেন এই অস্ট্রেলিয়ান পেসার। তার পারফরম্যান্স কেমন হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, স্টার্কের প্রত্যাবর্তন আইপিএলের চলমান আসরে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য তা হতে যাচ্ছে এক বড় উপভোগ্য মুহূর্ত।