প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষাকে সামনে রেখে হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণ করতে না পারা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ফরম পূরণের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বিলম্ব ফিসহ আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণ করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে ইতোমধ্যে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সোনালী সেবা’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ফি পরিশোধের সুযোগ রেখে ফরম পূরণের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।
প্রতিবছর এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়কে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের চাপ ও উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ বা আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি সংগ্রহ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেকেই শেষ সময়েও ফরম পূরণ করতে পারেন না। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, সময়সীমা বৃদ্ধি শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি মানবিক পদক্ষেপ। কারণ এইচএসসি পরীক্ষা শুধু একটি পরীক্ষা নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ধাপে সামান্য একটি ভুল বা সময়সীমা মিস হয়ে গেলে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। তাই সময় বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক শিক্ষার্থী এখনো ফরম পূরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। কেউ আর্থিক সংকটে, কেউবা তথ্যগত জটিলতায় আটকে ছিলেন। নতুন সময়সীমা তাদের সেই জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে। শিক্ষার্থীরা এখন নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফরম পূরণের জন্য, যাতে তারা আসন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ হারিয়ে না ফেলেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কারণ ফরম পূরণের তথ্য, ফি জমা এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের যথাযথ যাচাই-বাছাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ভুল তথ্য বা বিলম্ব ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এদিকে, ‘সোনালী সেবা’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ফি পরিশোধের বিষয়টি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা সহজেই ঘরে বসে ফি জমা দিতে পারছেন, যা সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় করছে। ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার এই অগ্রগতি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই জোরদার হয়েছে। সময়সীমা বাড়ানোর ফলে তারা কিছুটা বাড়তি সময় পাচ্ছেন, যা তাদের মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি একটি বার্তা দিচ্ছে যে, শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ফরম পূরণের সময়সীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হলো এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগী হওয়া।