ভারত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিচ্ছে না পাকিস্তান নারী দল।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার
নারী সাফে পাকিস্তান বাদ

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তান নারী ফুটবল দলের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা চলছিল, শেষ পর্যন্ত তা অংশ না নেওয়ার মধ্য দিয়েই সমাপ্ত হলো। ভারতের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দলটি দেশটিতে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি না পাওয়ায় এবারের আসরে মাঠে নামতে পারছে না পাকিস্তান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশন (পিএফএফ)।

আগামী ২৫ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ভারতের গোয়া রাজ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসর। দক্ষিণ এশিয়ার এই শীর্ষ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার কথা ছিল সাফের সদস্য আট দেশের মধ্যে ছয়টি দলের। তবে শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় এবং অবশেষে তারা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে।

পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের এক মুখপাত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিদেশে খেলতে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসি তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে পাননি। সরকারি অনুমতি না পাওয়ায় দলের ভারত সফর কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে দলটি।

সাফ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে ছয় দল নিয়ে টুর্নামেন্টের সূচি প্রকাশ করেছে। নতুন সূচি অনুযায়ী গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’-তে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, স্বাগতিক ভারত এবং মালদ্বীপ অংশ নেবে। পাকিস্তানের অনুপস্থিতি টুর্নামেন্টের কাঠামোতে পরিবর্তন আনলেও প্রতিযোগিতার উত্তেজনা কমবে না বলে আশা করছে আয়োজকরা।

ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতা ক্রীড়াক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া সম্পর্ক প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বা বহুজাতিক টুর্নামেন্ট ছাড়া দুই দেশের দলগুলো মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ খুব কমই পাচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও জটিল হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ক্রিকেট, হকি এবং ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়ায়। গত কয়েক বছরে একাধিকবার দুই দেশের দলগুলোর ভ্রমণ ও অংশগ্রহণ নিয়ে বাধা তৈরি হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়া অঙ্গনে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের অনুপস্থিতি শুধু একটি দলের অংশগ্রহণ না থাকা নয়, বরং আঞ্চলিক ক্রীড়া সহযোগিতার ঘাটতিরও প্রতিফলন। বিশেষ করে নারী ফুটবলের বিকাশের ক্ষেত্রে এমন প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যেখানে নতুন প্রতিভা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পায়।

অন্যদিকে সাফ ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, সময়সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্টটি নির্ধারিত সময়ে ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে আগে পুরুষদের আসরও সফলভাবে আয়োজন করা হয়েছিল।

টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ছয় দল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ নারী দল, যারা সর্বশেষ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছিল, এবারও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাফের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কারণে মাঝেমধ্যে অংশগ্রহণে পরিবর্তন এসেছে। পাকিস্তানের অংশগ্রহণ না থাকা নতুন নয়, তবে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এনওসি না পাওয়ায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

২০১০ সালে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসর হিসেবে বিবেচিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি অঞ্চলের নারী খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ মেলে।

পাকিস্তানের অনুপস্থিতি এবারের আসরে কিছুটা প্রভাব ফেললেও আয়োজকরা আশা করছেন, বাকি দলগুলোর অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত ও নেপালের ম্যাচগুলো ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ইতোমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে ঘিরে তাই একদিকে যেমন মাঠের লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক বাস্তবতার ছায়াও রয়ে গেছে। পাকিস্তানের অংশগ্রহণ না থাকা সেই বাস্তবতারই আরেকটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এলো এবারের আসরে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত