বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার
বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবশেষ চালু থাকা ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক।

বুধবার (২২ এপ্রিল) মধ্যরাতে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটি হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রটির অন্যান্য ইউনিটও বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সব ইউনিট অচল হয়ে পড়ায় পুরো প্ল্যান্টটি কার্যত বিদ্যুৎ উৎপাদনশূন্য অবস্থায় চলে গেছে।

৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষম এই বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই দেশের উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে দিনাজপুর, রংপুর ও আশপাশের এলাকায় শিল্প ও আবাসিক বিদ্যুতের একটি বড় অংশ এই কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। ফলে হঠাৎ করে পুরো কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত জটিলতার কারণে ইউনিটটি বন্ধ করতে হয়েছে। তবে বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে। প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যে মেরামত ও পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে পর্যায়ক্রমে যান্ত্রিক সমস্যার মুখোমুখি হয়ে আসছে। পুরনো প্রযুক্তির এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ায় মাঝে মধ্যেই উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের একমাত্র সচল ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বড়পুকুরিয়ার মতো তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির ঘাটতির সময় এই কেন্দ্রগুলো জাতীয় গ্রিডে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করে। ফলে এই ধরনের কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে সাময়িক হলেও লোডশেডিং বা সরবরাহ ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হয়।

কেন্দ্রটির প্রকৌশলীরা জানান, ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পর দ্রুতই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। মেরামত কাজ শেষ হলে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। তবে ঠিক কত সময় লাগবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

স্থানীয়ভাবে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, গরমের মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সময় এই ধরনের বড় কেন্দ্র বন্ধ থাকলে দৈনন্দিন জীবন ও শিল্প উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে যাতে বড় ধরনের চাপ না পড়ে সে জন্য বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে আলোচনায় রয়েছে। অতীতেও একাধিকবার কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ ও পুনরায় চালুর ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রটির আধুনিকায়ন না হলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।

এদিকে বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরনো তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। নাহলে এ ধরনের আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়া জাতীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর জন্য প্রযুক্তিগত টিম কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুরো কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত