প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হাই পারফরম্যান্স ইউনিট বা এইচপি। দীর্ঘদিন ধরেই এই ইউনিট থেকে উঠে এসেছে দেশের ক্রিকেটের বহু তারকা, যারা পরবর্তীতে জাতীয় দলের স্তম্ভে পরিণত হয়েছেন। সেই গুরুত্বপূর্ণ এইচপি ইউনিটে নতুন নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন-এর ওপরই এবার বড় দায়িত্ব তুলে দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন মৌসুমে এইচপি ইউনিটের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন এই অভিজ্ঞ কোচ। জাতীয় দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং দেশের ক্রিকেটারদের মানসিকতা ও কাঠামো সম্পর্কে তার গভীর ধারণা থাকায় বোর্ড তার ওপর আস্থা রাখতে চাইছে। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সালাউদ্দিনের দক্ষতা আগেও প্রশংসিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের অতীত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এইচপি ইউনিট থেকেই উঠে এসেছেন অনেক সফল ক্রিকেটার। সাকিব আল হাসান কিংবা তামিম ইকবাল-এর মতো তারকারা দেশের ক্রিকেটকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে নতুন করে এইচপি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা করছে বিসিবি।
বর্তমানে বিসিবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তামিম ইকবাল। জানা গেছে, চলতি মাসেই তিনি এইচপি কার্যক্রম নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে কে হবেন এই ইউনিটের প্রধান কোচ এবং কীভাবে পরিচালিত হবে আগামী দিনের পরিকল্পনা। বোর্ডের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এইচপি ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করতে হলে অভিজ্ঞ এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনায় বিশ্বাসী কোচের প্রয়োজন, আর সেই জায়গায় সালাউদ্দিনকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করা হচ্ছে।
এইচপি ইউনিটের আসন্ন কার্যক্রমও ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী মে মাস থেকেই অনুশীলন শুরু করবে দলটি। জুন মাসে Zimbabwe A দল বাংলাদেশ সফরে এসে এইচপি দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে। এই সিরিজটি তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের দক্ষতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এরপর জুলাই মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ এইচপি দল। সেখানে তারা তিনটি একদিনের ম্যাচ এবং দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলবে। এই সফরের মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে তরুণরা। বিশেষ করে পেস সহায়ক উইকেটে খেলার সুযোগ তাদের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরবর্তী ধাপে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে দলটি। সেখানে তারা অংশ নেবে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে, পাশাপাশি খেলবে কয়েকটি চার দিনের ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া সামনে ইমার্জিং এশিয়া কাপেও এইচপি ইউনিট থেকে খেলোয়াড় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে জাতীয় দলের পাইপলাইন আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাবে উদীয়মান ক্রিকেটাররা।
এবারের এইচপি ইউনিটে একটি বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে বয়সসীমা সংক্রান্ত বিষয়ে। আগে নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে খেলোয়াড় বাছাই করা হলেও এবার সেই সীমা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে শুধু বয়স নয়, পারফরম্যান্স ও সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। ক্রিকেট বোর্ড মনে করছে, এতে করে এমন অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার সুযোগ পাবেন যারা বয়সের কারণে আগে বাদ পড়তেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়নের জন্য এইচপি ইউনিটের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দলের বাইরে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলন, আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা এবং মানসিক প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমেই তৈরি হয় ভবিষ্যতের তারকারা। এই জায়গায় সঠিক নেতৃত্ব ও পরিকল্পনা না থাকলে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় দল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সম্ভাব্য এই নতুন দায়িত্বকে তাই অনেকেই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। তিনি এর আগেও বিভিন্ন পর্যায়ে কোচিং করিয়েছেন এবং দেশের ক্রিকেটারদের মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার অধীনে এইচপি ইউনিট নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বিসিবি। এইচপি ইউনিটে নতুন নেতৃত্ব, বিস্তৃত পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সূচি তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কতটা দ্রুত এগোয় বোর্ড এবং সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে এইচপি ইউনিট কতটা সফলভাবে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে।