ডোপ টেস্টে পজিটিভ, তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার
ডোপ টেস্টে পজিটিভ, তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বরিশাল জেলা পুলিশের তিন সদস্য ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফল আসার পর তাদের পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পেশাগত মান নিশ্চিত করতে চলমান নিয়মিত পরীক্ষার অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বরিশাল জেলা পুলিশের অধীন বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত সদস্যদের ডোপ টেস্ট করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে তিনজন সদস্যের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপরই তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয় এবং বিভাগীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

উজিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) ফারুক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডোপ টেস্টের ফল পাওয়ার পর ওই তিন পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা পুলিশ লাইন্সে অবস্থান করছেন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১০টি থানায় পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিক সময়ে এই পরীক্ষাগুলো আরও গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানান, ডোপ টেস্ট আগে থেকেই নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হলেও এবার এর ফলাফল বাস্তবে দৃশ্যমান হচ্ছে। তাদের মতে, আগে অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো আড়াল হয়ে যেত, কিন্তু এখন ফলাফল প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি নিয়মিত ও চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। বাহিনীর সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ডোপ টেস্ট নিয়মিতভাবে করা হয়।

তিনি আরও বলেন, যাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে, তাদের প্রথমে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়। এরপর বিষয়টি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে জানানো হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, সংশ্লিষ্ট তিন সদস্যের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডোপ টেস্টকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশ সদস্যদের মতো দায়িত্বশীল বাহিনীর ক্ষেত্রে এ ধরনের পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি, কারণ তাদের ওপর সরাসরি জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থার বিষয়টি জড়িত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডোপ টেস্ট সেই উদ্যোগেরই একটি অংশ, যা বাহিনীর ভেতরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।

একাধিক পর্যবেক্ষক মনে করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এটি অন্যান্য সদস্যদের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, যাতে তারা পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন থাকেন।

স্থানীয় পর্যায়ে এ ঘটনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে এমন পদক্ষেপ স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং জনআস্থা আরও দৃঢ় করবে। তবে একই সঙ্গে কেউ কেউ মনে করছেন, বিষয়টি আরও কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডোপ টেস্টের এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে জেলার সব ইউনিটে তা সম্পন্ন করা হবে। ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বরিশাল জেলা পুলিশের এই ঘটনা শুধু তিনজন সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নয়, বরং পুরো বাহিনীর শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও জনগণের আস্থা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত