প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে নতুন সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক। এ পদে তিনি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী তাকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনয়নটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবশিষ্ট কার্যকালের জন্য কার্যকর থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ পূর্ববর্তী কমিটির মেয়াদ অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সিন্ডিকেট শিক্ষানীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নিয়োগ, বাজেট অনুমোদনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। তাই এই পদে মনোনয়নকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনের ভিত্তিতে এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ২৩(১)(এফ) ও ২৩(৩) ধারা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর দুই বছরের জন্য সিন্ডিকেট সদস্যদের যে তালিকা গঠিত হয়েছিল, সেখানে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তার স্থলে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে মনোনীত করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের প্রশাসনিক কাঠামোয় এ ধরনের পরিবর্তন সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়, কারণ সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, নতুন বিভাগ অনুমোদন, শিক্ষক নিয়োগ ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় সিন্ডিকেটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তার একাডেমিক অবদান এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটে নতুন সদস্য যুক্ত হওয়া মানেই নীতিনির্ধারণী আলোচনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হওয়া। ফলে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো যেন আরও স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীবান্ধব হয়, সে বিষয়ে সিন্ডিকেটের ভূমিকা আরও জোরালো হওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন এই মনোনয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক মহলে এই পরিবর্তনকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন সদস্যের ভূমিকা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার অবদান নিয়েই মূলত মূল্যায়ন হবে তার কার্যকারিতা।
সব মিলিয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানের অন্তর্ভুক্তি শিক্ষা প্রশাসনের ধারাবাহিকতা ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।