রংপুরে ডিমের দাম বাড়ল, মুরগিতে স্বস্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার
ডিমের দামে ঊর্ধ্বগতি, মুরগিতে স্বস্থি

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রংপুর নগরীর বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের দামে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। এর মধ্যে ডিমের দাম কিছুটা বেড়ে ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করলেও মুরগির বাজারে এসেছে স্বস্তি। একই সঙ্গে সবজির বাজারে চলছে ওঠানামা, তবে চাল-ডালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে রংপুর নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়। বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরবরাহ ও চাহিদার তারতম্যের কারণেই মূলত এসব পরিবর্তন ঘটছে।

ডিমের বাজারে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। খুচরা বাজারে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকায়, যেখানে গত সপ্তাহে দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি হালিতে প্রায় চার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ক্রেতাদের মতে, হঠাৎ এই দাম বৃদ্ধিতে দৈনন্দিন খরচে চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ছে।

অন্যদিকে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা থেকে কমে বর্তমানে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমে এসেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের দেশি ও বিদেশি মুরগির দামেও কিছুটা কমতি দেখা গেছে। পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকা থেকে কমে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি হাইব্রিড মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা থেকে কমে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায় এবং পাকিস্তানি লেয়ার মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম তুলনামূলকভাবে বেশি থাকলেও তা স্থিতিশীল রয়েছে, যা ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। গরুর মাংস ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে বলেই দাম কমেছে। কামাল কাছনা বাজারের বিক্রেতা হাবিবুর রহমান জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়লে দাম স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়, আবার সরবরাহ কমলে দাম বেড়ে যায়। একই ধরনের মন্তব্য করেন অন্য ব্যবসায়ীরাও।

সবজির বাজারেও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। কিছু সবজির দাম বেড়েছে, আবার কিছু সবজির দাম কমেছে। টমেটো আগের মতোই ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে গাজরের দাম বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় উঠেছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। সজনে ৭০ থেকে ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। ঝিংগা ৭০ থেকে ৮০ টাকা থেকে কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা থেকে কমে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পটল ৭০ থেকে ৮০ টাকা থেকে কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ঢেঁড়শ ৬০ থেকে ৭০ টাকা থেকে কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বরবটি, করলা, লাউ ও ধনেপাতার দামেও কিছুটা কমতি লক্ষ্য করা গেছে। কাঁচা মরিচের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকা থেকে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় নেমেছে। পেঁয়াজের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

মসলার বাজারেও আংশিক স্বস্তি ফিরেছে। দেশি আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা থেকে কমে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় নেমেছে। আমদানি করা আদা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শাপলা বাজারের সবজি বিক্রেতা নরুল ইসলাম বলেন, যেসব সবজির সরবরাহ বেশি এসেছে সেগুলোর দাম কমেছে, আর যেগুলোর সরবরাহ কম সেগুলোর দাম বেড়েছে।

এদিকে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে প্রতিনিয়ত দাম ওঠানামা করায় তাদের পরিকল্পিতভাবে বাজার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সিটি বাজারে আসা শফিকুল ইসলাম ও সাজু মিয়া জানান, নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।

সব মিলিয়ে রংপুরের বাজারে বর্তমানে মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও ডিমের দাম বৃদ্ধি এবং সবজির অস্থিরতা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য মিশ্র পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত