ভারত থেকে ডিজেল আসায় সরবরাহে স্থিতিশীলতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৯ বার
ভারত থেকে ডিজেল আসায় সরবরাহে স্থিতিশীলতা

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিবেশী ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে। সর্বশেষ চালানে ভারত থেকে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছেছে। এর ফলে চলতি এপ্রিল মাসে মোট আমদানি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ডিজেল ভারতের নুমালীগড় থেকে সরাসরি পার্বতীপুরে পৌঁছে। মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিপো ম্যানেজার কাজী রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এপ্রিল মাসে ইতোমধ্যে তিন দফায় ডিজেল আমদানি সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম দফায় ১১ এপ্রিল ৮ হাজার মেট্রিক টন, দ্বিতীয় দফায় ১৯ এপ্রিল ৫ হাজার মেট্রিক টন এবং সর্বশেষ ২৩ এপ্রিল ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে। এই ধারাবাহিক আমদানির ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতার অংশ হিসেবে স্থাপিত এই পাইপলাইন বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত সংযোগ হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে পরিবহন খরচ কমার পাশাপাশি সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে সাশ্রয় হচ্ছে। জানা গেছে, ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পৌঁছাতে প্রায় ৭০ ঘণ্টা সময় লেগেছে, যা প্রচলিত জাহাজ বা রেলপথে পরিবহনের তুলনায় অনেক দ্রুত ও কার্যকর।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ভারত থেকে মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছিল। সেই হিসেবে মার্চ এবং এপ্রিল মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত মোট আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার মেট্রিক টন। এই পরিমাণ জ্বালানি দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এপ্রিল মাস শেষ হওয়ার আগেই আরও প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটি যুক্ত হলে চলতি মাসে মোট আমদানির পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছাবে। যদিও প্রাথমিকভাবে এপ্রিল মাসে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল, তবে বাস্তব পরিস্থিতি ও ডিপোর সক্ষমতা বিবেচনায় বর্তমান হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, পদ্মা অয়েল কোম্পানি এবং মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি শুধু অর্থনৈতিকভাবে লাভজনকই নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধানও বটে। পরিবহন খরচ কমানো, সময় সাশ্রয় এবং সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। একই সঙ্গে এটি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করছে।

বাংলাদেশে জ্বালানি চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবহন খাতের সম্প্রসারণের কারণে ডিজেলের ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছায়। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও কয়েক দফায় ডিজেল সরবরাহ করা হয়। শুরু থেকেই এই প্রকল্প দেশের জ্বালানি খাতে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই পাইপলাইনের সক্ষমতা আরও বাড়ানো গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও এমন অবকাঠামো ব্যবহার করা গেলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সব মিলিয়ে, ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির এই ধারাবাহিকতা দেশের জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত