কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের গণপদত্যাগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার
কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পদত্যাগ

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একযোগে পদত্যাগের ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা, উদ্বেগ ও নানা জল্পনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট এবং হাউস টিউটরসহ প্রায় ২০ জন শিক্ষক তাদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল যোগাযোগ মাধ্যমে পৃথক বার্তায় তারা এই সিদ্ধান্ত জানান, যা পরদিন থেকেই একাডেমিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নায়লা ইয়াসমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘদিনের কিছু অসন্তোষ, ক্ষোভ এবং প্রশাসনিক জটিলতার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রায় ২০ জন শিক্ষক আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং বিস্তারিত জানতে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন।”

পদত্যাগকারী শিক্ষকদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিরা রয়েছেন। ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর মো. রাকিবুল আলম, সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সাবাব জুলফিকার, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা তনুজা ইয়াসমিন, প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) মাজহারুল হক জুবায়েদ ও রোকসানা পারভীনসহ আরও অনেকে তাদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্বে থাকা মো. মসীহ ইবনে ইয়াছিন আদন, মো. সোহানুল ইসলাম ও আতিয়া ফাইরুজ এবং হাউস টিউটর হিসেবে সুরাইয়া খানম মীম, ওয়াহিদ কায়সার ও মো. আসাদুজ্জামানও পদত্যাগ করেছেন।

এছাড়াও গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির, রোভার স্কাউট ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ, ক্রীড়া ইনচার্জ মো. এবাদুর রহমান এবং ছাত্রী হলের হাউস টিউটর মো. সাইফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

পদত্যাগকারী শিক্ষকরা তাদের বার্তায় উল্লেখ করেছেন, তারা শুধুমাত্র প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, তবে শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবেন এবং তাদের একাডেমিক কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটতে দেবেন না। অনেকেই বলেছেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের চাপ ও জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন, যার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রাকিবুল আলম তার বার্তায় জানান, তিনি সহকারী প্রক্টর ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য সবসময় কাজ করে যাবেন। একইভাবে তনুজা ইয়াসমিন ও মাজহারুল হক জুবায়েদও তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীল থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত, দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব নিয়ে শিক্ষক মহলের একটি অংশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। তবে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এত সংখ্যক শিক্ষক একযোগে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হল ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং শিক্ষার্থী সেবামূলক কার্যক্রমে সাময়িক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। নতুন করে প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন, কার্যক্রম সচল রাখা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন তাদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে এত সংখ্যক শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো একটি গুরুতর ইঙ্গিত বহন করে। এটি শুধু অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ নয়, বরং প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতার দিকেও ইঙ্গিত করতে পারে। তাই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তারা আরও মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে খোলামেলা আলোচনা, স্বচ্ছতা এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে সমস্যার সমাধান করা জরুরি। অন্যথায় শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে এবং শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসলেও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুতই এ বিষয়ে একটি সমাধানমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পদত্যাগকারী শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের উদ্বেগ ও দাবিগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। প্রশাসনিক সমন্বয়, দায়িত্ব বণ্টন এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব থাকলে যে কোনো প্রতিষ্ঠানেই এমন সংকট তৈরি হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এবং কার্যকরভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত