সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার
সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জঙ্গি হামলার আশঙ্কা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর Hazrat Shahjalal International Airport-সহ গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, তল্লাশি ও গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ।

সোমবার বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কতা জারির পরপরই বিমানবন্দরগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে যাত্রী চলাচল, লাগেজ তল্লাশি এবং প্রবেশ-নির্গমনের প্রতিটি ধাপে বাড়তি নজরদারি কার্যকর করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি Police Headquarters Bangladesh থেকে একটি সতর্কতামূলক চিঠি পাঠানো হয়, যেখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়। ওই চিঠি পাওয়ার পরপরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করে।

নির্দেশনার পর বিমানবন্দরগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে প্রবেশ পথ, চেকিং পয়েন্ট, লাগেজ স্ক্যানিং এলাকা, টার্মিনাল ভবন এবং এয়ারক্রাফট পার্কিং জোনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পোশাকধারী বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক আচরণ শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বিশেষ টিম কাজ করছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অ্যারাইভাল ও ডিপারচার উভয় ক্ষেত্রেই কঠোর তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ব্যাগেজ স্ক্যানিং, শরীর তল্লাশি এবং পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের শিথিলতা রাখা হচ্ছে না।

এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া না গেলেও আগাম সতর্কতা হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিতভাবেই বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হয় এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা হালনাগাদ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সতর্কতা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেসব বিমানবন্দরে রাতের ফ্লাইট পরিচালনা হয় না, সেখানেও রাতে নিরাপত্তা টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এয়ারসাইড ও ল্যান্ডসাইড—উভয় এলাকায় নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে।

বেবিচকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিমানবন্দরের প্রবেশপথগুলোতে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। কোনো যাত্রী বা ভিজিটরের পরিচয় যাচাই ছাড়া প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা আচরণ দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানিয়েছেন, দেশের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকাসহ সব বিমানবন্দরে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, “এটি কোনো আতঙ্কের বিষয় নয়, বরং আগাম সতর্কতার অংশ। আমরা নিয়মিতভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তিশালী করি।”

অন্যদিকে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানবন্দর, উপাসনালয় এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কেন্দ্র হওয়ায় এখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যর্থতা শুধু জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীদেরও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা ব্যক্তি দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে দেশের বিমানবন্দরগুলো এখন রয়েছে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমন্বিত তৎপরতায় সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে, যাতে যাত্রী নিরাপত্তা ও বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত