বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১ বার
বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপ চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ঘেঁষা বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য এবং সক্রিয় সঞ্চালনশীল মেঘমালার প্রভাবে আবহাওয়ায় আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া বায়ুচাপের অস্থিরতা এবং ঘন মেঘমালার কারণে সমুদ্র এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বইছে, যা সামুদ্রিক পরিবহন ও মাছ ধরার কার্যক্রমের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ কারণে বন্দরে সতর্ক সংকেত বাড়ানো হয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মঙ্গলবার সকালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। দিনের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। যদিও বৃষ্টিপাতের উপস্থিতি থাকবে, তবুও গত দিনের তুলনায় তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

দেশের বিভিন্ন বিভাগের আবহাওয়া পরিস্থিতিও থাকবে বৈচিত্র্যময়। ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে অনেক স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। খুলনা ও বরিশাল বিভাগেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কাও করা হয়েছে, যা নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে।

আগামী দিনের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকায় বজ্রসহ দমকা হাওয়া বইতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা স্বাভাবিক জনজীবন ও কৃষি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্ববর্তী সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, গত ৪৮ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঞ্চলে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত এবং ভারী বৃষ্টিপাত যুক্ত হলে কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, চলমান বৃষ্টিপাত ও মেঘমালার প্রভাবে দেশের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কমে এসেছে। গত কয়েকদিনের তীব্র গরমের পর এই পরিবর্তন স্বস্তি দিলেও, আবহাওয়ার এই অস্থিরতা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েকদিন দেশের কোথাও তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা নেই, বরং বৃষ্টির ধারাবাহিকতা তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নামিয়ে রাখতে পারে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল, যা জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। বিশেষ করে রাজশাহী ও ঢাকায় তাপপ্রবাহের তীব্রতা বেশি ছিল। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে সেই পরিস্থিতি অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে।

সমুদ্র ও নদীপথে চলাচলকারীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের অস্থির বায়ুচাপ এবং ঘূর্ণায়মান মেঘমালা সামুদ্রিক পরিবেশকে অনিরাপদ করে তুলছে। ফলে ছোট নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে সমুদ্র থেকে দূরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে এবং কোথাও কোথাও এটি ভারী আকার ধারণ করতে পারে। এতে করে নিম্নাঞ্চল ও শহরাঞ্চলে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নগর এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ পরিস্থিতি একসঙ্গে কাজ করায় এই ধরনের আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি জলবায়ুর স্বাভাবিক অংশ হলেও, কখনো কখনো এর তীব্রতা জনজীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।

সব মিলিয়ে, দেশের আকাশে এখন মেঘ-বৃষ্টির এক অস্থির সময় চলছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তন একদিকে যেমন গরম থেকে স্বস্তি দিচ্ছে, অন্যদিকে ঝড়-বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। তাই আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত