বৃষ্টি ও জ্বালানির দামে কাঁচাবাজারে অস্থিরতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ৩ বার
কাঁচাবাজার মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টানা বৃষ্টি এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও দাম বাড়ার চাপ দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সবজিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে দাম নিয়ে চাপা অসন্তোষও দেখা যায়।

বর্তমানে বাজারে কাঁচামরিচ কেজি ৬০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, পটোল ৭০ টাকা, পেঁপে ১০০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, সজনে ১৪০ টাকা এবং ধনিয়া পাতা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন খরচও বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়ছে।

একজন সবজি বিক্রেতা মো. শাহবুদ্দিন বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে সবজি আনতে হচ্ছে। পাইকারি বাজারেই প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি লাগছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে, তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে, তখন দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে মুরগির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৭৪০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে কাঁচাবাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, তাদের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। আয় একই থাকলেও নিত্যপণ্যের দাম প্রতিনিয়ত ওঠানামা করছে, যা সংসার চালানোকে কঠিন করে তুলছে।

একজন ক্রেতা রনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার পর থেকেই সব পণ্যের দাম বাড়ছে। এখন আবার টানা বৃষ্টির কারণে বাজারের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিবহন খরচ নিত্যপণ্যের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাকে বহন করতে হয়। একই সঙ্গে আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।

তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি আবহাওয়া স্থিতিশীল না হয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকে, তাহলে আগামী দিনগুলোতে সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। খাদ্য ব্যয় বেড়ে গেলে অন্যান্য খাতে ব্যয় সংকোচন করতে হয়, যা জীবনযাত্রার মানে চাপ সৃষ্টি করে।

তারা আরও মনে করেন, কৃষি উৎপাদন এলাকা থেকে বাজার পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে না পারলে প্রতি বছরই মৌসুমি অস্থিরতা দেখা দেবে।

সব মিলিয়ে টানা বৃষ্টি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা শুধু সাময়িক সমস্যা নয়, বরং একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক চাপের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষ আপাতত এই দামের চাপের মধ্যেই দৈনন্দিন জীবন চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত