প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ঢালিউডের নতুন সিনেমা ‘সর্দারবাড়ির খেলা’ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মুক্তির আগেই সিনেমাটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে পারিশ্রমিক বিতর্ক, যা নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে। সিনেমাটির নায়ক জিয়াউল রোশান সরাসরি অভিযোগ তুললেও নায়িকা শবনম বুবলীর নীরবতা নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
লোকজ ঐতিহ্য লাঠিখেলা ও লাঠিয়ালদের জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন নবীন নির্মাতা রাখাল সবুজ। এটি তার প্রথম চলচ্চিত্র। গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বড় পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা থাকলেও মুক্তির আগেই আর্থিক জটিলতা সিনেমাটিকে বিতর্কের মুখে ফেলেছে।
সিনেমাটির ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই দর্শক ও চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। অনেকেই মনে করছেন, গল্পনির্ভর এই সিনেমাটি জিয়াউল রোশানের ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। পাশাপাশি শবনম বুবলীর উপস্থিতিও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
তবে সিনেমাটির প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই নায়ক-নায়িকা কিংবা নির্মাতাকে নিয়মিতভাবে প্রচারণায় দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ধীরে ধীরে প্রশ্ন উঠতে থাকে, যার পরিণতিতে সামনে আসে পারিশ্রমিক ইস্যু।
নায়ক জিয়াউল রোশান অভিযোগ করে বলেন, তিনি সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য আট লাখ টাকা পারিশ্রমিকের চুক্তি করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী ডাবিংয়ের আগেই পুরো অর্থ পরিশোধ করার কথা থাকলেও তা সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করা হয়নি। তার ভাষায়, সেন্সর বোর্ড থেকে অনুমতি পাওয়ার পরও বকেয়া অর্থ না দেওয়া এবং হঠাৎ ট্রেলার প্রকাশ করা একটি অপেশাদার আচরণ।
অন্যদিকে নায়িকা শবনম বুবলী এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি। তার এই নীরবতা নিয়েও চলচ্চিত্র মহলে নানা আলোচনা চলছে।
প্রযোজনা সূত্রে জানা যায়, সিনেমাটি সরকারের কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছে। তবে মোট নির্মাণ ব্যয় প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। এর মধ্যে আগের একটি বকেয়া সম্মানী ইস্যু থাকায় সিনেমার মুক্তি আগে একবার পিছিয়ে যায়। পরে সেই বকেয়া পরিশোধ করা হয় বলে জানা গেছে।
প্রযোজক মীর জাহিদ হাসান জানিয়েছেন, পারিশ্রমিক সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং খুব শিগগিরই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। তিনি বলেন, সিনেমার মুক্তি বাধাগ্রস্ত হোক, তা তারা চান না এবং সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নির্মাতার প্রথম সিনেমাতেই এমন বিতর্ক শিল্পের জন্য ভালো সংকেত নয়। তবে একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, সময়মতো সমাধান হলে সিনেমার ওপর এর প্রভাব কম পড়বে।
‘সর্দারবাড়ির খেলা’ সিনেমায় শুধু রোশান ও বুবলীই নন, আরও অনেক গুণী অভিনয়শিল্পী রয়েছেন। আজাদ আবুল কালাম, শহীদুজ্জামান সেলিম, নাসির উদ্দিন খান ও ইরেশ যাকেরসহ একাধিক অভিজ্ঞ অভিনেতা এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
সিনেমাটি ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত হলেও তখন এর নাম ছিল ‘পুলসিরাত’। পরে প্রিভিউ কমিটির সিদ্ধান্তে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘সর্দারবাড়ির খেলা’। আগামী ৮ মে সিনেমাটি মুক্তির কথা রয়েছে।
তবে মুক্তির আগেই তৈরি হওয়া এই পারিশ্রমিক বিতর্ক সিনেমার প্রচারণাকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ঢালিউডে এমন ঘটনা নতুন নয়, তবে বড় বাজেটের সিনেমায় এটি দর্শক আগ্রহে প্রভাব ফেলতে পারে।
চলচ্চিত্র বোদ্ধারা বলছেন, বাংলাদেশি চলচ্চিত্র শিল্পে আর্থিক স্বচ্ছতা ও চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। কারণ বারবার পারিশ্রমিক জটিলতা শিল্পীদের মধ্যে অনাস্থা তৈরি করছে।
অন্যদিকে দর্শকরা আশা করছেন, বিতর্কের বাইরে গিয়ে সিনেমাটি তার গল্প ও নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
সব মিলিয়ে ‘সর্দারবাড়ির খেলা’ এখন শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং ঢালিউডের পেশাদারিত্ব, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং শিল্পীদের সম্পর্কের একটি নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মুক্তির পর দর্শকের প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করবে, এই বিতর্ক সিনেমার সাফল্যে কতটা প্রভাব ফেলবে।