শ্রমজীবী উন্নয়নে জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করছে সরকার: রাষ্ট্রপতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
শ্রমিক কল্যাণ বাংলাদেশ সরকার

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শ্রমিকদের দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমের কারণেই দেশের শিল্প, উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। “সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে সবার নব প্রভাত”—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার শ্রমিক কল্যাণে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শিল্পায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র দুই মাসের মধ্যে বন্ধ থাকা কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর কার্যক্রম শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও কয়েকটি বন্ধ পাটকল চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শ্রমিক অধিকার সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া আইনি পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আরও সুসংহত করতে “বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬” ইতোমধ্যে পাস করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার একাধিক কনভেনশনে অনুস্বাক্ষর করেছে।

শ্রমিকদের কল্যাণের ধারাবাহিকতার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়কালেও শ্রমজীবী মানুষের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি রেমিট্যান্স প্রবাহের সূচনা হয়েছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়, যা পরবর্তীতে আরও বিস্তৃত হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তিনি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি সতর্ক করে বলেন, কোনো ধরনের প্ররোচনায় শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টি করা উচিত নয়। তিনি বলেন, শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য শিল্প উৎপাদন অব্যাহত রাখা জরুরি, আর এজন্য শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মিরপুরের রূপনগরে কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৩ শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এই ঘটনা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যে শ্রমিকদের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়টি আবারও উঠে এসেছে। শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় অনুষ্ঠানে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত