প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সরকারি ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এবার অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এখন থেকে এসব কর্মকর্তাকে আকাশপথে বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে বিজনেস ক্লাস বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণির পরিবর্তে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করতে হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-১ থেকে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জারি করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর জারি করা বিদেশ ভ্রমণ নীতিমালার কিছু ধারা থাকলেও বর্তমান আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় এনে ব্যয় সংকোচনের স্বার্থে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে এখন থেকে অতিরিক্ত সচিব বা সমপর্যায়ের সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তার জন্য বিদেশ সফরে ইকোনমি ক্লাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকারি ব্যয়ের ওপর চাপ কমাতে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন খাতে কড়াকড়ি আরোপ করছে প্রশাসন। বিশেষ করে বিদেশ সফর, প্রশিক্ষণ ও প্রতিনিধিদল পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ আগেও নেওয়া হয়েছিল। তবে এবার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভ্রমণ সুবিধাতেও সরাসরি পরিবর্তন আনা হলো।
অর্থ বিভাগের আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজনেস ক্লাস, ক্লাব ক্লাস কিংবা এক্সিকিউটিভ ক্লাসে ভ্রমণের কোনো সুযোগ আর থাকবে না। শুধুমাত্র ইকোনমি ক্লাসে টিকিট কেটে বিদেশ ভ্রমণ করতে হবে এবং এ সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণের একটি কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, উন্নয়ন ব্যয়ের ভারসাম্য এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সময়োপযোগী।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যয় ব্যবস্থাপনার চাপে সরকারকে কঠোর ব্যয়নীতি অনুসরণ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশ সফর খাতে দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ উঠছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, উচ্চপদস্থদের জন্য দীর্ঘ বিমানযাত্রায় আরাম ও কার্যকারিতা বিবেচনায় বিজনেস ক্লাস সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তা সীমিত করা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।
তবে প্রশাসনের ভেতরে কেউ কেউ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক সফরে শারীরিক ক্লান্তি ও কর্মক্ষমতার ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে সরকারি খাতে ব্যয় কমানোর জন্য বিদেশ সফরে প্রতিনিধিদলের সংখ্যা কমানো, অনুমোদন প্রক্রিয়া কঠোর করা এবং অপ্রয়োজনীয় সফর বাতিলের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবার সেই ধারাবাহিকতায় ভ্রমণ শ্রেণিতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হলো।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে সহায়তা করবে, পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমে জবাবদিহিতা বাড়াবে। তবে এর বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের ওপর।
অর্থ বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, নতুন এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
সব মিলিয়ে সরকারি ব্যয় কমানোর বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে ইকোনমি ক্লাস বাধ্যতামূলক করার এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।