প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত ৯ জনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলায় আজ গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিচারিক সূত্র জানায়, আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই আদেশ ঘোষণা করা হবে। মামলাটি বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত সহিংসতায় ৯ জন নিহত হন। এই ঘটনায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, প্রশাসনিক প্রভাব এবং পরিকল্পিত সহিংসতার অভিযোগ এনে একাধিক সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থা বলছে, ঘটনাটির পেছনে পরিকল্পনা, নির্দেশনা এবং উস্কানির বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলায় মোট ২৮ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে চারজন গ্রেফতার রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৪ জন এখনো পলাতক বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে।
আইনজীবীরা বলছেন, আজকের অভিযোগ গঠনের আদেশ মামলার পরবর্তী বিচারিক ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অভিযোগ গঠন হলে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে, যেখানে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন এবং জেরা পর্ব চলবে।
এদিকে একই দিনে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনের সময় কারফিউ জারি করে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও উস্কানির অভিযোগে দায়ের হওয়া পৃথক একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে নবম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে একই ট্রাইব্যুনাল-২-এ জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের করা জুলাই হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত মামলায় দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন। এসব একাধিক মামলার বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে চলায় আদালত প্রাঙ্গণে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার পর্যবেক্ষক ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের মামলার বিচার প্রক্রিয়া দেশের বিচারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক ইতিহাসেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তারা মনে করেন, বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হলে জনআস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোহাম্মদপুরের এই হত্যাকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পর্যায়ে যে সহিংসতা ও সংঘর্ষ হয়েছিল, তার আইনি পরিণতি এখন আদালতে দৃশ্যমান হচ্ছে।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেছেন, আদালত আজকের আদেশের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ এই মামলার বিচারিক অগ্রগতি ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করছেন, মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ আনা হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। তারা আদালতে তাদের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যাতে বিচার কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
সব মিলিয়ে মোহাম্মদপুরের ৯ জন হত্যাকাণ্ডের এই মামলা দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আজকের আদেশের মাধ্যমে মামলাটি কোন দিকে অগ্রসর হয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও বিচারিক মহলে তীব্র আগ্রহ বিরাজ করছে।