প্রকাশ: ২৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
খুলনা নগরীর বড় মির্জাপুর এলাকায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে একটি ছাতা তৈরির কারখানা। বহুতল একটি ভবনের চতুর্থ তলায় গড়ে ওঠা এই কারখানাটি মাত্র চার ঘণ্টার আগুনেই সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শুরু হওয়া আগুন শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটকে একটানা যুদ্ধ করতে হয় প্রায় ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত।
রাতের শহরের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়া আগুনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বড় মির্জাপুর এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে ভবন থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। শুরুতে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় পরে খুলনা সদর, টুটপাড়া, ও খালিশপুর স্টেশন থেকে আরও পাঁচটি ইউনিট যোগ দেয়। রাত সাড়ে তিনটার দিকে যুক্ত হয় আরও একটি ইউনিট।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানায়, যে ভবনে আগুন লাগে সেটি ছিল দুটি পাঁচতলা ভবনকে জোড়া লাগিয়ে তৈরি একটি শিল্পস্থাপনা, যেখানে রহমান ছাতা কোম্পানি তাদের উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। আগুন ভবনটির চতুর্থ তলা একেবারে গ্রাস করে নেয়। ভাগ্যক্রমে ওই সময় ভবনে যারা অবস্থান করছিলেন, তারা আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই নিচে নেমে যাওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তবে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীকেও দুরূহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ভবনের বিভিন্ন প্রবেশপথে তালা লাগানো ছিল, যার ফলে আগুনে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আশপাশের বাড়ির ছাদ ও টিনের চাল ব্যবহার করে উপরের তলায় পানি ছিটাতে হয়। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (খুলনা) আবু বকর জামান বলেন, “ভবনের চতুর্থ তলা পুরোপুরি পুড়ে গেছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে আমরা পৌঁছাই এবং ভোর সাড়ে পাঁচটার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি।”
তিনি আরও জানান, আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হলো, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ছাতার কাঁচামাল ও উৎপাদন যন্ত্রপাতি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখে তারা আতঙ্কে ছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের যথাসময়ে হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ভবিষ্যতের জন্য এমন শিল্প-কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথ পর্যালোচনা ও জবাবদিহিতা দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এমন একটি বাণিজ্যিক কারখানা কীভাবে আবাসিক বহুতল ভবনে পরিচালিত হচ্ছিল এবং কীভাবে ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটা দুর্বল থাকতে পারে।
এখন প্রয়োজন দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। কারণ, একটি ছোট গাফিলতিই মুহূর্তে মানুষের জীবন, জীবিকা এবং স্বপ্ন পুড়িয়ে দিতে পারে। আজ সেই বিভীষিকাই আরও একবার প্রত্যক্ষ করল খুলনার বড় মির্জাপুর।