আমিরাতে ঈদুল আজহা সম্ভাব্য তারিখ ২৭ মে

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৬৪ বার
ঈদুল আজহা তারিখ ঘোষণা

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ভিত্তিতে আগামী বছরের পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৭ মে, বুধবার মুসলিম বিশ্বে পবিত্র এই উৎসব উদযাপিত হতে পারে। তবে এই তারিখ চূড়ান্ত নয় এবং তা চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ এবং আমিরাত অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরব জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ বিজ্ঞান ইউনিয়নের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিলহজ মাসের সূচনাসূচক অর্ধচন্দ্র আগামী ১৭ মে রোববার রাত স্থানীয় সময় ১২টা ১ মিনিটে দেখা যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব বলছে, সেদিন সূর্যাস্তের প্রায় ৫৮ মিনিট পর চাঁদ অস্ত যাবে, যা চাঁদ দেখার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সেই সঙ্গে চাঁদ দিগন্তের প্রায় ১০ ডিগ্রি উচ্চতায় অবস্থান করবে, যা খালি চোখে বা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখা সম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১৮ মে সোমবার থেকে জিলহজ মাস শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসলামি ক্যালেন্ডারের গুরুত্বপূর্ণ এই মাসের প্রথম দিন নির্ধারিত হলে, তার ওপর ভিত্তি করেই ঈদুল আজহার তারিখ চূড়ান্ত হবে।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ৯ তারিখকে আরাফার দিন হিসেবে পালন করা হয়, যা হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, এই দিনটি পড়তে পারে ২৬ মে মঙ্গলবার। এর পরের দিন অর্থাৎ ২৭ মে বুধবার ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ধর্মীয় কমিটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই তারিখগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সাধারণত জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং চাঁদ দেখার সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে ইসলামি মাসের সূচনা নির্ধারণ করে থাকে। ফলে ঈদুল আজহার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবের তারিখ এক দেশ থেকে অন্য দেশে সামান্য পার্থক্যও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন অনেক আগেই সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন দেশের প্রস্তুতিতে সুবিধা হয়। বিশেষ করে হজযাত্রীদের যাত্রা, ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং অর্থনৈতিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এই ধরনের পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এদিকে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও সম্ভাব্য ঈদের তারিখ নিয়ে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আগেভাগেই ছুটির পরিকল্পনা, ভ্রমণ এবং পারিবারিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের মধ্যে এই সময়টিতে বাড়তি উৎসাহ দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, বরং এটি অর্থনীতি, পর্যটন এবং সামাজিক জীবনের ওপরও বড় প্রভাব ফেলে। এই সময়ে বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের ভ্রমণ ও কেনাকাটার প্রবণতা তৈরি হয়, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করে।

ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, জ্যোতির্বিজ্ঞান শুধু একটি বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস দেয়, তবে ধর্মীয় সিদ্ধান্ত সবসময় আনুষ্ঠানিক চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল থাকবে। তাই সম্ভাব্য তারিখকে চূড়ান্ত হিসেবে না ধরে বরং প্রস্তুতির একটি ধারণা হিসেবে দেখা উচিত।

সব মিলিয়ে, আগামী বছরের ঈদুল আজহা নিয়ে মুসলিম বিশ্বে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি, তবুও সম্ভাব্য তারিখ সামনে আসায় ধর্মীয় ও সামাজিক প্রস্তুতি শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এখন সবার নজর থাকবে চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে, যা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে উৎসবের দিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com