সর্বশেষ :

সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় চাপে থালাপতি বিজয়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় চাপে থালাপতি বিজয়

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নাটকীয়তা ও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়। নির্বাচনে নতুন দল গঠন করে অভিষেকেই বড় সাফল্য পেলেও সরকার গঠনের পথ এখনই সহজ হচ্ছে না তার জন্য। রাজ্যপালের কঠোর অবস্থান এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের শর্তের কারণে জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে তার দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম।

সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দলটি সরকার গঠনের দাবি জানালেও রাজ্যপাল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু দাবি নয়, সংখ্যাগরিষ্ঠতার বাস্তব প্রমাণ দেখাতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অন্তত একশো আঠারো জন বিধায়কের লিখিত সমর্থন ছাড়া সরকার গঠনের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই শর্তের ফলে বিজয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।

রাজভবনে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিজয়কে একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। কীভাবে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করবেন, কোন দল তার পাশে থাকবে এবং সম্ভাব্য জোটসঙ্গীরা কারা—এসব বিষয় নিয়ে তাকে জবাবদিহি করতে হয়। রাজ্যপালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাগজে-কলমে সংখ্যা থাকলেও বাস্তবে সেই সমর্থন কতটা স্থায়ী, সেটিই মূল প্রশ্ন।

বর্তমানে বিজয়ের দলের হাতে রয়েছে একশ আটটি আসন, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে কিছুটা কম। এই ঘাটতি পূরণের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। কিছু বাম দল এবং আঞ্চলিক দলের সমর্থন পাওয়ার ইঙ্গিত মিললেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অন্যদিকে কংগ্রেস শর্তসাপেক্ষ সমর্থনের কথা বলেছে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে জোট করা যাবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তামিলনাড়ুর জটিল জোট রাজনীতিতে এককভাবে সরকার গঠন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তাই বিজয়ের দলকে ছোট দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কমিউনিস্ট দল, আঞ্চলিক শক্তি এবং অন্যান্য ছোট রাজনৈতিক দলের সমর্থন মিলিয়ে একটি সম্ভাব্য জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। তবে এই জোট কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বড় দলগুলোর অবস্থান। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী কিছু দলের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনা হলেও তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে কিছু দলের সঙ্গে পূর্বের জোটগত সম্পর্কের কারণে নতুন সমীকরণ তৈরি করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বিজয়ের দল যদি দ্রুত প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারে, তবে রাজ্যপাল বিধানসভা স্থগিত করার সুপারিশ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসন জারি এবং নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো বিজয়ের রাজনৈতিক কৌশল। অভিনয় জগৎ থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও বাস্তব রাজনীতির জটিলতা এখন তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার সমর্থকরা এখনো আশাবাদী হলেও বিরোধীরা বিষয়টিকে কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে দলের ভেতরেও বিভিন্ন আলোচনা চলছে। বিধায়কদের একটি অংশকে রাজধানীর বাইরে একটি রিসোর্টে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে, যাতে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা যায় এবং কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে সমাধান নয়।

সব মিলিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতি এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে। বিজয়ের উত্থান যেমন দ্রুত হয়েছে, তেমনি সরকার গঠনের পথও হয়ে উঠেছে আরও জটিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ না করতে পারলে তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন আপাতত থমকে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত