সর্বশেষ :

ঢাবিতে নতুন প্রো-ভিসি নিয়োগ অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
ঢাবি প্রো ভিসি নিয়োগ অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক কাঠামোয় নতুন নেতৃত্ব যুক্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অভিজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর এই নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে প্রো-ভিসি (প্রশাসন) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি পরবর্তী চার বছর এই দায়িত্ব পালন করবেন, তবে শর্ত সাপেক্ষে তাঁর মেয়াদ ও দায়িত্ব নির্ধারিত হবে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করবেন। একই সঙ্গে তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও আইন অনুযায়ী ভাইস চ্যান্সেলরের নির্দেশনায় নির্ধারিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

নতুন এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের হাতে প্রশাসনিক দায়িত্ব যাওয়াকে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। একই বিভাগ থেকে তিনি বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর এই ধারাবাহিক একাডেমিক সাফল্য তাঁকে গবেষণাক্ষেত্রে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে নিয়ে গেছে।

শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স কর্তৃক অ্যাসোসিয়েট ফেলো হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। পাশাপাশি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকেও তিনি ‘ক্যাপস্টোন ফেলো’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন, যা তাঁর গবেষণাগত দক্ষতা ও জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী চিন্তায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ বহন করে।

গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃত। তিনি ১০০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং ছয়টি আন্তর্জাতিক বইয়ের লেখক বা সহ-লেখক হিসেবে যুক্ত আছেন। তাঁর গবেষণা বিশেষ করে উদ্ভিদবিজ্ঞান, শৈবালবিদ্যা, পরিবেশ বিজ্ঞান এবং জৈবপ্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তিনি বেশ কিছু ব্যতিক্রমী কাজের জন্য পরিচিত। বিশ্বে প্রথমবারের মতো ১৬টি নতুন শৈবাল প্রজাতি, একটি নতুন পদ্ম প্রজাতি এবং একটি পতঙ্গভুক উদ্ভিদ শনাক্ত ও আবিষ্কারে তাঁর অবদান রয়েছে। এ ধরনের আবিষ্কার তাঁকে আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে পরিচিত করে তুলেছে। পাশাপাশি শৈবাল-নির্ভর পানি বিশুদ্ধকরণ প্রযুক্তি, ন্যানো-ফিল্টার, সুপার ক্যাপাসিটর এবং বায়োসেন্সর উন্নয়নে তাঁর গবেষণা পরিবেশ ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে চারজন গবেষক পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং চল্লিশেরও বেশি শিক্ষার্থী এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছে। এতে গবেষণার প্রতি তাঁর নিবেদন এবং একাডেমিক নেতৃত্বের দক্ষতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী শুধু গবেষণা ও শিক্ষকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সাবেক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, গবেষণা ও সেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে চলেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ মহল মনে করছে, নতুন প্রো-ভিসির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসতে পারে। বিশেষ করে একাডেমিক উন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক দক্ষতা এবং গবেষণাভিত্তিক নেতৃত্ব একসঙ্গে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় শুধুমাত্র প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নয়, বরং গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সংযোগও সমানভাবে প্রয়োজন। সেই দিক থেকে অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর নিয়োগ একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে সবসময়ই জাতীয় নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তাই এর প্রশাসনিক নেতৃত্বে যেকোনো পরিবর্তনই জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পায়। নতুন প্রো-ভিসির দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর এই নিয়োগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত