প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন টালিউড অভিনেতা ও সাবেক বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় ও নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন তিনি, যা নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি করেছে।
এক সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া কাঞ্চন মল্লিক এবার নির্বাচনে প্রার্থী হননি। বরং রাজনীতি থেকে নিজেকে অনেকটাই সরিয়ে নিয়েছেন তিনি। নির্বাচনের পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, রাজনীতিতে আসার পেছনে যেমন অনুপ্রেরণা ছিল, তেমনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতা তাকে ভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ভোটে জয়ের পরও প্রত্যাশিত দায়িত্ব বা দপ্তর পাননি তিনি। দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি বলেও দাবি করেন এই অভিনেতা। তার ভাষায়, দীর্ঘ সময় কাজ করলেও সেই কাজের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি বলে তিনি অনুভব করেছেন।
কাঞ্চন মল্লিক আরও জানান, রাজনীতিতে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব একটি বড় সমস্যা হিসেবে কাজ করেছে। তার মতে, অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও সমন্বয়ের অভাব না থাকলে নির্বাচনী ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। যদিও তিনি সরাসরি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে সামগ্রিক পরিস্থিতিকেই দায়ী করেছেন।
তিনি স্বীকার করেন যে, রাজনীতির পরিবেশ তার জন্য উপযুক্ত ছিল না। নিজের অবস্থান নিয়ে আত্মসমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি নিজেকে বিধায়ক পদে যোগ্য মনে করেননি, আর সেই কারণেই রাজনীতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সঠিক বলেই মনে করেন।
তবে রাজনৈতিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি কাঞ্চনের। তিনি জানান, তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষের নির্বাচনী জয় তাকে আনন্দ দিয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় তিনি ইতিবাচক অবস্থান বজায় রেখেছেন বলে জানান অভিনেতা।
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক জীবনে যেমন ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে, তেমনি কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতাও তার মনে দাগ কেটেছে। তবে এখন আর সেসব নিয়ে নতুন করে বিতর্কে জড়াতে চান না তিনি।
বর্তমানে কাঞ্চন মল্লিক পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছেন তার অভিনয় জীবনে। প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারকে সামনে রেখে তিনি আবারও বিনোদন জগতে সক্রিয় হতে চান। পাশাপাশি পরিবারকেই এখন তার প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনের কথাও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে। মেয়ের অসুস্থতা এবং পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে এবার জন্মদিন বড় করে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ঘরোয়া পরিবেশে খুব সাধারণভাবে দিনটি কাটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাঞ্চন মল্লিকের এই মন্তব্যগুলো তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও তিনি সরাসরি কোনো দলবিরোধী অবস্থান নেননি, তবে তার বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, একদিকে অভিনয় জগতে ফেরা এবং অন্যদিকে রাজনীতি থেকে সরে আসার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা কাঞ্চন মল্লিকের বক্তব্য এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।