সর্বশেষ :

যশোরে ২৬ স্বর্ণবারসহ তিনজন আটক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
যশোরে ২৬টি স্বর্ণের বারসহ আটক তিন

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যশোরে বড় ধরনের স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা মূল্যের ২৬টি স্বর্ণের বারসহ তিনজন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে যশোর শহরের নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিজিবির কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্বর্ণ সংগ্রহ করে সীমান্ত দিয়ে পাচারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। সাম্প্রতিক তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির একটি বড় চালান যশোর হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করবে—এমন তথ্য পাওয়ার পরই অভিযান শুরু করা হয়।

অভিযানে অংশ নেয় যশোর-৪৯ ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ দল। তারা নড়াইল মহাসড়কের নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নিয়ে সন্দেহভাজন একটি প্রাইভেটকারকে থামিয়ে তল্লাশি চালায়। প্রাথমিকভাবে গাড়িটিতে কোনো সন্দেহজনক কিছু না থাকলেও পরে গভীরভাবে তল্লাশি চালিয়ে সিটের কুশনের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় ২৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

আটক তিনজন হলেন যশোরের শার্শা উপজেলার রাজনগর গ্রামের রনি, চৌগাছা উপজেলার কয়েরপাড়া গ্রামের আব্দুল গনি এবং যশোর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের ইসরাইল। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় তিন কেজি ৪৮ গ্রাম। এর বাজারমূল্য আনুমানিক ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, কয়েকটি মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থও জব্দ করা হয়েছে।

যশোর-৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা নিশ্চিত হন যে একটি বড় স্বর্ণের চালান যশোর অভিমুখে আসছে। এরপরই বিজিবির বিশেষ দল অবস্থান নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে সফলভাবে চালানটি আটক করতে সক্ষম হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা স্বীকার করেছে যে তারা ঢাকার আব্দুল্লাহপুর ও উত্তরা এলাকার কিছু চোরাকারবারির কাছ থেকে স্বর্ণ সংগ্রহ করেছিল। পরিকল্পনা ছিল এসব স্বর্ণ যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হবে। তবে তার আগেই বিজিবির তৎপরতায় পুরো পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যশোর, শার্শা ও চৌগাছা এলাকায় বিভিন্ন সময়ে ছোট ও বড় চক্র সক্রিয় থাকার খবর পাওয়া যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার হওয়ায় এসব চক্রের কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণ চোরাচালান শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও প্রভাব ফেলে। অবৈধভাবে স্বর্ণ পাচার হলে দেশের বৈধ বাজার ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এই ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান অত্যন্ত জরুরি।

বিজিবি জানিয়েছে, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে তা শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির এই সফল অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ, এই ধরনের চক্র সক্রিয় থাকলে স্থানীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিবেশ উভয়ই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

বিজিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ স্বর্ণ ও অন্যান্য পণ্য পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান চলবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় চালান আটক করা সম্ভব হয়।

সব মিলিয়ে যশোরে এই অভিযান স্বর্ণ চোরাচালান রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার এবং একটি সংগঠিত চক্রের সদস্যদের আটক করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত