প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে হাম ও এর উপসর্গজনিত রোগের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও সংশ্লিষ্ট জটিলতায় ১২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এবং উপসর্গ পাওয়া গেছে এমন শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২৪ জনে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলেছে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু রোগীদের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে এবং অনেক হাসপাতালেই শয্যা সংকট ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম সাধারণত প্রতিরোধযোগ্য একটি সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত না হলে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ জটিল অবস্থায় হাসপাতালে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর, শরীরে র্যাশ, শ্বাসকষ্ট এবং খাবার গ্রহণে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। গুরুতর অবস্থার কারণে কিছু শিশুকে আইসিইউ পর্যবেক্ষণে রাখতে হচ্ছে।
অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে যেসব এলাকায় টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে সেখানে আক্রান্তের হার তুলনামূলক বেশি বলে জানা গেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি মেনে না চললে এমন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন জেলায় জরুরি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
শিশু বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন কোনোভাবেই টিকাদান কর্মসূচি অবহেলা না করা হয়। তাদের মতে, সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
এদিকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শহর ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি বলে সতর্ক করা হয়েছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত রোগ নির্ণয়, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া গেলে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ করছে। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সক্রিয় করা হয়েছে যাতে দ্রুত আক্রান্তদের শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া যায়।
সব মিলিয়ে দেশে হামের এই হঠাৎ ঊর্ধ্বগতি শিশু স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।