৭ অক্টোবর হামলা ঘিরে কঠোর আইন প্রস্তাব ইসরাইলি পার্লামেন্টে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
৭ অক্টোবরের হামলায় অভিযুক্ত শতাধিক ফিলিস্তিনির মৃত্যুদণ্ড চায় ইসরাইল

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে সংঘটিত হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান রেখে নতুন একটি বিল উপস্থাপন করা হয়েছে ইসরাইলি পার্লামেন্টে (নেসেট)। এই প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে শতাধিক ফিলিস্তিনি অভিযুক্তকে কঠোর বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন নেসেটে এই বিল উত্থাপন করেন। বিলটি অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে সংঘটিত হামলায় জড়িত বলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রকাশ্য বিচার প্রক্রিয়া চালানোর বিধান রাখা হয়েছে।

বিলটি নেসেটে আলোচনার পর ভোটাভুটির জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের একাংশের সমর্থন পাওয়ার কারণে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ইসরাইলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিল দেশটির বিচার ব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন বলেন, রাষ্ট্রের কাছে যদি মৃত্যুদণ্ডের আইনগত ক্ষমতা থাকে, তবে তা প্রয়োগের ক্ষেত্রও থাকা উচিত। তার ভাষায়, গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি আরও দাবি করেন, এই মামলায় শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে এবং সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নেসেটের সংবিধান বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান সিমচা রথম্যান এ প্রসঙ্গে বলেন, এই আইন ইসরাইলের শত্রুদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে রাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তার মতে, রাষ্ট্র কোনো ধরনের সহিংসতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সহ্য করবে না এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে, যেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ আনা হবে। এছাড়া এই আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে যাতে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কোনো বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে মুক্তি না পান।

এর আগে এপ্রিল মাসেও একই ধরনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যেখানে প্রাণঘাতী হামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়। তবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আইনগত সীমাবদ্ধতা থাকায় তা কার্যকর হয়নি।

আরও আগে মার্চ মাসে ইসরাইল একটি আইন পাস করেছিল, যেখানে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়। তবে সেই আইনটি পূর্ববর্তী ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হওয়ায় ৭ অক্টোবরের হামলার অভিযুক্তদের বিচার করতে নতুন বিল আনার প্রয়োজন দেখা দেয়।

ইতিহাসে ইসরাইল খুব সীমিতভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। দেশটিতে শেষবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল ১৯৬২ সালে, যা বহু দশক ধরে অপ্রচলিত একটি শাস্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। নতুন এই বিল পাস হলে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খুলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এ ধরনের কঠোর শাস্তির বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়।

অন্যদিকে ইসরাইলি সমাজের একটি অংশ মনে করছে, সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিল ঘিরে সমর্থন ও বিরোধিতা উভয়ই দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিল কেবল একটি আইনগত উদ্যোগ নয়, বরং এটি ইসরাইলের নিরাপত্তা নীতিতে একটি কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন। তবে এর প্রভাব শুধু দেশীয় রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজা ও আশপাশের অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন এই আইন নিয়ে আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।

সব মিলিয়ে, ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের এই নতুন আইন প্রস্তাব অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত