২০৩৬ সালের মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য এনসিপিরঃ সারজিস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
এনসিপি সরকারি দল লক্ষ্য

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ২০৩৬ সালের মধ্যে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার গঠন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে ভিত্তি গড়ে তোলাই তাদের মূল অগ্রাধিকার।

রোববার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সারজিস আলম বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তাদের লক্ষ্য শুধু নির্বাচনে অংশ নেওয়া নয়, বরং জনগণের আস্থা অর্জন করে একটি কার্যকর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। তিনি জানান, ২০৩৬ সালের মধ্যে দলটি জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকারি দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ১৩টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে পাঁচটির প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। শিগগিরই বাকি সিটি করপোরেশনগুলোর প্রার্থীও প্রকাশ করা হবে।

দলের সাংগঠনিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৫০০টি উপজেলা এবং ৩৩০টি পৌরসভা রয়েছে, অর্থাৎ মোট ৮৩০টি স্থানীয় ইউনিট। প্রথম ধাপে এক হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে, যেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ১০০ জন প্রাথমিক প্রার্থীকে মনোনীত করা হয়েছে।

সারজিস আলম বলেন, আগামী মে মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। তিনি জানান, শুধু দলীয় নেতাকর্মী নয়, অন্য রাজনৈতিক দল থেকে আগত পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরাও মনোনয়নের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত বা পূর্বে রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান থাকবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এনসিপি এককভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে।

প্রথম ধাপে ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর এবং গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রার্থীর নাম প্রকাশের মাধ্যমে দলটি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক উপস্থিতি জোরদার করার চেষ্টা করছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বিস্তৃত করা এবং নির্বাচনী অভিজ্ঞতা অর্জন করাই এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে চায় দলটি।

অনুষ্ঠানে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এনসিপি একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায়, যেখানে যোগ্যতা ও সততা হবে মনোনয়নের প্রধান ভিত্তি। তিনি বলেন, পুরনো রাজনৈতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য।

গ্লোবাল ডায়াস্পোরা সেলের প্রধান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ ও সমর্থনও দলীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলটির ভাবমূর্তি গড়ে তুলতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও দলটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও সংগঠিত পরিকল্পনা তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তারা মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন দলগুলো সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে, যা ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে এনসিপির এই ঘোষণাকে কেউ কেউ ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সময়ই নির্ধারণ করবে তাদের বাস্তব সক্ষমতা।

সব মিলিয়ে এনসিপির ২০৩৬ সালের ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলটির সংগঠন বিস্তার, প্রার্থী ঘোষণা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত