প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চীনের প্রতি অভূতপূর্ব প্রশংসা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি চীনের স্থাপত্য, পরিবেশ এবং নেতৃত্বকে “অত্যন্ত মুগ্ধকর” বলে মন্তব্য করেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক নতুন করে উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ঝংনানহাই লিডারশিপ কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি চীনের প্রতি গভীরভাবে মুগ্ধ। তার ভাষায়, চীনের অনেক কিছুই বিশ্বমানের এবং বিশেষ করে তাদের ঐতিহাসিক ও আধুনিক স্থাপত্য তাকে আকৃষ্ট করেছে।
ঝংনানহাই এলাকায় ঘোরার সময় ট্রাম্প এক পর্যায়ে বলেন, “এগুলো সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর গোলাপ।” তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ও শি যৌথভাবে কমপ্লেক্সটি পরিদর্শন করেন। সফরের এই অংশকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিদর্শনের সময় ট্রাম্প আরও বলেন, শি জিনপিং তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনের জন্য বিশেষ গোলাপ উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
ট্রাম্প আরও জানান, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফর আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি, তবে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সফরের সময় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হবে। তার ভাষায়, “যেমন পারস্পরিক বাণিজ্য, তেমনি এই সফরও হবে পারস্পরিক। আমরা সব বিষয় খোলাখুলিভাবে আলোচনা করব।”
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে চীনের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় একই ধরনের অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। তার মতে, এই সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।
টানা তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন ত্যাগ করেন। বেইজিং ছাড়ার সময় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাঁকজমকপূর্ণ বিদায় জানানো হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সফরের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে টানাপোড়েন চলছিল। তাই ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মন্তব্য এবং সরাসরি প্রশংসা দুই দেশের সম্পর্ককে কিছুটা হলেও স্বস্তির পথে নিতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সফর কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চীনের পক্ষ থেকেও ট্রাম্পকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক এবং ঘনিষ্ঠ আলোচনা ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে একই সঙ্গে অনেক বিশ্লেষক সতর্ক করে বলছেন, এই ধরনের কূটনৈতিক উষ্ণতা দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই হবে তা নির্ভর করবে বাস্তব নীতিগত পরিবর্তনের ওপর। বিশেষ করে শুল্ক, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মতো ইস্যুগুলো এখনো দুই দেশের মধ্যে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের চীন সফর এবং তার প্রকাশ্য প্রশংসা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এই সফর কেবল দুই নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।