প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত সংলাপভিত্তিক কমিশনের আলোচনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ২০তম দিনে সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও ন্যায়পাল নিয়োগ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে হঠাৎ ওয়াকআউট করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার পর বৈঠক শুরু হলে কমিশনের সহ-সভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলী রীয়াজ আলোচ্য বিষয়টি উপস্থাপন করেন। কিন্তু আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া মাত্র বিএনপির পক্ষে উপস্থিত দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়ে দেন যে, তারা এই আলোচনায় অংশ নেবে না। এর পরপরই তিনি বৈঠক কক্ষ ত্যাগ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত থেকে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা এই বিষয়টির আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে না এবং অনুপস্থিত থাকবে। একটি দলের অংশগ্রহণ না থাকায় আলোচনা থেমে যাবে কি না, সে বিষয়ে কমিশন এককভাবে সিদ্ধান্ত দিতে পারে না বলে জানান তিনি।
এদিকে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “একটি বড় দল যদি আলোচনায় অংশ না নেয়, তবে ঐকমত্য অর্জন খুব কঠিন হয়ে পড়ে। বাস্তবিক অর্থে আলোচনাই অগ্রসর করা সম্ভব হয় না।” তাঁর মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত কমিশনের কার্যক্রমে রাজনৈতিক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে এবং জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ফল আসার সম্ভাবনা কমে যায়।
তবে সংলাপের সঞ্চালক মনির হায়দার খান ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, “এর আগেও একাধিক সংলাপে এক বা একাধিক দল ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে আলোচনা থেকে বিরত থেকেছে, কিন্তু তখনও ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছিল।”
এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল আলোচনার বাইরে থাকলে ‘জাতীয় ঐকমত্য’ আদৌ সম্ভব কি না। বিএনপির এই পদক্ষেপকে কেউ কেউ কৌশলগত রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখলেও, কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামো ও তাতে সব দলের অংশগ্রহণ নিয়েই এখন নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের গভীরতর রাজনৈতিক বিভাজন নিরসনের পথ যে এখনও অনেক দূরের, এই ঘটনা সেটাই প্রমাণ করে।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন