ঈদে ১৩ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা ফিলিং স্টেশন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ১২ বার
ঈদে ১৩ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা ফিলিং স্টেশন

প্রকাশ: ১৮ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। উৎসবকালীন সময়ে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে দেশের সব ফিলিং স্টেশন টানা ১৩ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোও সার্বক্ষণিক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে যানবাহনের জ্বালানি সংকটের কারণে কোনো ধরনের ভোগান্তি তৈরি না হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের মহাসড়ক ও আন্তঃজেলা রুটগুলোতে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই চাপ সামাল দিতে এবং যাত্রীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত দেশের সব ফিলিং স্টেশন অবিচ্ছিন্নভাবে খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ঈদের আগে সাত দিন এবং ঈদের পরে পাঁচ দিন—মোট ১৩ দিন এই বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

সরকারের এই নির্দেশনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে সম্প্রতি একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানের কাছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঈদ মৌসুমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গতিশীল রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং কোনো স্টেশন যেন নির্ধারিত সময়ে বন্ধ না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের তদারকি জোরদার করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ মনে করছে, ঈদের সময় সড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক সময় জ্বালানি সংকট বা লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় স্টেশনে জট তৈরি হয়। নতুন এই সিদ্ধান্ত সেই চাপ কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে এবারও দেশজুড়ে ব্যাপক মানুষের যাতায়াত হবে। গ্রামের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন নগরবাসী। তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকরাও ধাপে ধাপে ছুটিতে যাচ্ছেন। এর ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বড় শহরগুলো থেকে একযোগে যাত্রীপ্রবাহ বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোতে টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এই দীর্ঘ ছুটির কারণে সড়কপথে যানবাহনের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে তৈরি পোশাক শিল্পখাতেও ধাপে ধাপে ছুটি কার্যকর করা হচ্ছে, যাতে একসঙ্গে শ্রমিকদের চাপ না পড়ে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে কর্মরত লাখো শ্রমিক ঈদ উদযাপন করতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরবেন। এই সময়ে সড়ক, নৌ ও রেলপথে যাত্রীদের চাপ সাধারণ সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে জ্বালানি চাহিদার ওপর।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধু পেট্রোল বা ডিজেল নয়, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোও ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। এতে করে সিএনজি চালিত যানবাহনগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি নিতে পারবে এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে যাত্রা বিলম্বের সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে সাধারণত ঈদের সময় দীর্ঘ অপেক্ষার পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা এবার এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের মতো বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে জ্বালানি খাতে এমন সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যাত্রীদের স্বস্তি দিতে এ ধরনের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত মনিটরিং ও সরবরাহ চেইন ঠিক রাখা না গেলে এই উদ্যোগ পুরোপুরি সফল নাও হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

তারা আরও বলেন, শুধু স্টেশন খোলা রাখলেই হবে না, জ্বালানি পরিবহন, মজুত এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও সমানভাবে শক্তিশালী রাখতে হবে। বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চলে যাতে কোনো ধরনের সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়াতে হবে।

সব মিলিয়ে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। যাত্রীদের আশা, এবার ঈদযাত্রা হবে তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক, অন্তত জ্বালানি সংকটের কারণে যেন কোনো ভোগান্তি না হয়। দীর্ঘ যাত্রাপথে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

দেশজুড়ে ঈদের আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে এমন একটি সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাত্রাকে আরও সহজ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন মাঠ পর্যায়ে এর সঠিক বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে এই উদ্যোগ কতটা সফলভাবে মানুষের ভোগান্তি কমাতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত