প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় এক বিশাল আকৃতির ষাঁড় গরু স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। উপজেলার মাহমুদপুর এলাকার রোজিনা-রফিকুল দম্পতির খামারে লালিত-পালিত এই গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘জমিদার’। এর বিশাল দেহ, শান্ত স্বভাব এবং ব্যতিক্রমী খাদ্যাভ্যাস এলাকাজুড়ে মানুষের নজর কেড়েছে।
স্থানীয় খামার সূত্রে জানা যায়, গরুটি বর্তমানে চার বছর বয়সী এবং এর ওজন প্রায় ৩২ মণ বলে দাবি করা হচ্ছে। উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় এগারো ফুট। হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটি আকারে যেমন বিশাল, তেমনি স্বভাবে অত্যন্ত শান্ত। খামারিদের ভাষায়, গরুটি যেন পরিবারের একজন সদস্য হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খামারের একটি চালাঘরে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে ‘জমিদার’। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ ভিড় করছেন গরুটিকে একনজর দেখার জন্য। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন। প্রতিদিনই স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের এলাকা থেকেও উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন এই খামারে।
খামার মালিক রোজিনা বেগম জানান, গরুটিকে তারা পরিবারের একজন সদস্যের মতো করে লালন-পালন করেছেন। তার ভাষায়, নিয়মিত যত্ন, পরিচর্যা এবং উন্নতমানের খাবারের কারণেই গরুটি এত বড় আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, গরুটির বিশেষ যত্ন নেওয়া হয় এবং কোনো ধরনের নিম্নমানের বা বাসি খাবার দেওয়া হয় না।
খামার সূত্রে জানা গেছে, ‘জমিদার’-এর দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় থাকে কাঁচা ঘাস, খড়, ভুসি, ভুট্টা, খৈল, ছোলা এবং বিভিন্ন ধরনের ফলসহ উন্নতমানের দানাদার খাবার। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকার খাবার গ্রহণ করে গরুটি। এই বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের কারণেই গরুটির নাম ‘জমিদার’ রাখা হয়েছে বলে জানান খামারিরা।
খামার মালিক রফিকুল মোল্লা জানান, গত কোরবানির ঈদে এই গরুটির দাম প্রায় ছয় লাখ বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে তখন বাজারমূল্য সন্তোষজনক না হওয়ায় তিনি বিক্রি করেননি। পরবর্তীতে আরও এক বছর ধরে যত্ন ও পরিচর্যা করা হয়েছে, ফলে গরুটির আকার ও ওজন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এবার গরুটির দাম ধরেছেন প্রায় তেরো লাখ টাকা, যদিও আলোচনার ভিত্তিতে কিছুটা কম হলেও বিক্রি করতে রাজি আছেন বলে জানান।
তিনি আরও দাবি করেন, গরুটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারে লালন-পালন করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের রাসায়নিক বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা হয়নি। তার মতে, দীর্ঘদিনের যত্ন ও পরিশ্রমের ফলেই গরুটি আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।
স্থানীয়রা জানান, এমন বিশাল আকৃতির গরু তারা আগে খুব কমই দেখেছেন। বিশেষ করে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ‘জমিদার’-কে ঘিরে এলাকায় আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই শুধু কৌতূহল থেকেই খামারে আসছেন, আবার কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও ছবি শেয়ার করছেন।
এক দর্শনার্থী ইকবাল মাহমুদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুটির কথা শুনে তিনি দেখতে এসেছেন। কাছে এসে তিনি বিস্মিত হয়েছেন গরুটির বিশাল আকৃতি দেখে। তার মতে, এত বড় গরু তিনি আগে কখনও দেখেননি। একই সঙ্গে গরুটির শান্ত স্বভাবও তাকে মুগ্ধ করেছে।
স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নতজাতের গরু পালন এখন এলাকায় বাড়ছে। খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম জানান, খামারিরা এখন আরও সচেতনভাবে গরু পালন করছেন এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ভালো ফল পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের বড় আকারের গরু স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে খামারিরা ভালো আয় করতে পারেন। তবে তিনি খামারিদের স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পশুপালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
সব মিলিয়ে মেলান্দহের ‘জমিদার’ এখন শুধু একটি গরু নয়, বরং স্থানীয়দের কাছে একটি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এর চাহিদা ও মূল্য নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। খামারি পরিবারও আশা করছে, এই বিশাল গরুটি তাদের বছরের পরিশ্রমের একটি সফল প্রতিফলন হয়ে উঠবে।