প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে অসাধারণ এক ইনিংস খেললেন মুশফিকুর রহিম। অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের সেঞ্চুরিতে ভর করে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে সফরকারী দলটির সামনে জয়ের জন্য দাঁড়িয়েছে কঠিন এক লক্ষ্য।
ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৯০ রান। প্রথম ইনিংসের লিডসহ পাকিস্তানকে জিততে হলে করতে হবে ৪৩৭ রান, যা টেস্ট ক্রিকেটের চতুর্থ ইনিংসে খুবই কঠিন লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে সিলেটের উইকেটে শেষ দিনে ব্যাটিং চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে ওঠে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে ২৭৮ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে পাকিস্তান দল ২৩২ রানে গুটিয়ে যায়। বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে সফরকারীরা। গতি ও স্পিনের মিশ্র আক্রমণে একের পর এক উইকেট হারায় পাকিস্তান।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে সফল ছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা এবং বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দুজনই নেন তিনটি করে উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ নেন দুটি করে উইকেট। তাদের সমন্বিত বোলিং পারফরম্যান্স পাকিস্তানকে বড় স্কোর গড়তে দেয়নি।
দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু থেকেই কিছুটা ধীরগতিতে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের শেষে ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে তারা এগিয়ে ছিল। তবে তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেতৃত্ব দেন মুশফিকুর রহিম। অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে তিনি ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন এবং পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
শেষ পর্যন্ত ২৩৩ বল মোকাবিলা করে ১৩৭ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মুশফিক। তার ইনিংসে ছিল ১২টি চার এবং একটি ছক্কা। এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান তিনি। তার এই সেঞ্চুরি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ইনিংসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্বের আরেকটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকল তার এই অর্জন।
মুশফিকের ব্যাটিং দৃঢ়তার পাশাপাশি লিটন দাসের প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিও বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে বড় ভূমিকা রাখে। দুই ইনিংসে ব্যাটারদের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সে পাকিস্তানের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান তৈরি করে স্বাগতিকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ৪৩৭ রানের লক্ষ্য টেস্ট ক্রিকেটে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে। সিলেটের উইকেটেও শেষ দিনে স্পিনাররা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ম্যাচের ফল এখন অনেকটাই বাংলাদেশের বোলারদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে।
ম্যাচ শেষে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, মুশফিকুর রহিমের এই ইনিংস শুধু একটি সেঞ্চুরি নয়, বরং অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘ সময় ধরে দলের বিপদে ভরসা হয়ে থাকা এই ব্যাটার আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম স্তম্ভ।
পাকিস্তানের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। একদিকে বড় লক্ষ্য, অন্যদিকে বাংলাদেশের শক্তিশালী স্পিন আক্রমণ। ফলে ম্যাচের শেষ পর্বে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে সিলেট টেস্ট এখন রোমাঞ্চকর মোড়ে পৌঁছেছে। মুশফিকের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি এবং বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ ম্যাচকে এনে দিয়েছে নাটকীয়তার নতুন মাত্রা।