সামুদ্রিক নিরাপত্তায় দেশীয় সক্ষমতা জোরদার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ২০ বার
সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে দেশীয় সক্ষমতাই হবে প্রধান শক্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে দেশীয় প্রযুক্তি ও সক্ষমতাকেই প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম এ কে এম শামছুল ইসলাম।

সোমবার নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা, নৌ-শক্তি এবং সামুদ্রিক স্বার্থ সুরক্ষায় দেশীয় নৌ-শিল্পের বিকাশ এখন সময়ের দাবি। তাঁর মতে, জাহাজ নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন না করলে দীর্ঘমেয়াদে সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করা সম্ভব নয়।

পরিদর্শনকালে তিনি নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই ডকইয়ার্ডে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, আধুনিক কারিগরি সুবিধা, উৎপাদন ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত অগ্রগতি তুলে ধরা হয় তাঁর সামনে।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডকে একটি আধুনিক ও কার্যকর নৌ-শিল্প প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হলে প্রযুক্তিগত দক্ষতা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং উন্নত ব্যবস্থাপনার সমন্বয় প্রয়োজন। শুধু অবকাঠামো নয়, মানবসম্পদ উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশীয় সম্পদ ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে আত্মনির্ভরশীল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে পারলেই দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি ডকইয়ার্ডের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও কর্মীদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি সময়ানুবর্তিতা, গুণগত মান এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বজায় রেখে কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, একটি শক্তিশালী নৌ-শিল্প গড়ে তুলতে হলে প্রতিটি পর্যায়ে শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিদর্শনের সময় তিনি ডকইয়ার্ডের ওয়ার্কশপ, উৎপাদন এলাকা, মেরামত সুবিধা এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড শুধু একটি জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত কেন্দ্র নয়, এটি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এর সক্ষমতা বৃদ্ধি মানে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানকে শুধু প্রতিরক্ষা খাত নয়, বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ ও আন্তর্জাতিক মানের নৌ-শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

পরিদর্শন শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের মাধ্যমেই বাংলাদেশ তার সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

সব মিলিয়ে তাঁর এই পরিদর্শনকে দেশের নৌ-শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাতে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সরকারের দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে দেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত