২০২৬-২৭ এডিপি ৩ লাখ কোটি টাকা অনুমোদন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ৮ বার
এডিপি আকার ২০২৬ ২৭

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত অগ্রগতিকে সামনে রেখে এই বৃহৎ বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার, অর্থায়নের উৎস এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এডিপির এই আকার দেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে গতি দেবে এবং নতুন অবকাঠামো বিনিয়োগে সহায়তা করবে।

সভা শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, এডিপির মোট অর্থায়নের বড় অংশ আসবে সরকারের নিজস্ব উৎস থেকে, যার পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থের জোগান আসবে বিদেশি ঋণ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সহায়তা থেকে, যা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এবারের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও স্থিতিশীল করতে সরকার আগামী পাঁচ বছরের একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে পুনরুদ্ধার করে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনি ইশতেহার ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশলের প্রতিফলন ঘটবে এই বাজেট কাঠামোয়।

সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবারের এডিপি শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, জ্বালানি ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চলমান প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

এনইসি সভা পরিচালিত হয় দেশের সর্বোচ্চ উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্ধারণকারী সংস্থা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ এর অধীনে। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তারা উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়ানো, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কমানো এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সরকারি সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার এডিপির আকার কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে অর্থনৈতিক চাপ না বাড়ে এবং বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পগুলোর ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়া যায়। বিশেষ করে যেসব প্রকল্প ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, সেগুলো দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে যেসব প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল, সেগুলোর একটি পর্যালোচনা চলছে। যেসব প্রকল্প দেশের জন্য কার্যকর ও প্রয়োজনীয়, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন বাজেট শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং জনগণের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনার একটি মাধ্যম। তাই প্রতিটি প্রকল্পের ফলাফল যেন দৃশ্যমান হয়, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি দেশের উন্নয়ন প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তবে এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে প্রশাসনিক দক্ষতা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার ওপর। তারা বলছেন, বরাদ্দ বাড়ানো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়মতো এবং মানসম্মত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

এদিকে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক ঋণের চাপের মধ্যেও এমন বড় এডিপি অনুমোদনকে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।

সভা শেষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুত প্রকল্প তালিকা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছর শুরুর আগেই বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পগুলো প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে, যাতে উন্নয়ন কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিলম্ব না ঘটে।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপি দেশের উন্নয়ন কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, এই বরাদ্দের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা এবং অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত