‘জামাতিদের অস্বস্তি বেড়েছে’: শুভেন্দুর কড়া বার্তা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
  • ১০ বার
‘জামাতিদের অস্বস্তি বেড়েছে’: শুভেন্দুর কড়া বার্তা

প্রকাশ: ১৯ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন। সোমবার (১৮ মে) কলকাতার ভবানীপুর ও ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত এক ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও আক্রমণাত্মক ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের জামায়াতপন্থিদের অস্বস্তি বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে তিনি সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ, অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো, ভাতা নীতিতে পরিবর্তন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দেন।

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে Mamata Banerjee-কে তার নিজ কেন্দ্র ভবানীপুরে পরাজিত করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জয় পাওয়ার পর ভোটারদের ধন্যবাদ জানাতে আয়োজিত সভাগুলো রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হয়। সেখানে তিনি নিজের সরকারকে “রাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার সরকার” হিসেবে তুলে ধরেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ আর চলবে না। সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত করা হবে এবং যেসব ব্যক্তি বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানো হবে। তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা থেকে অনেক অনুপ্রবেশকারীর নাম বাতিল করা হয়েছে এবং এখন প্রত্যর্পণের সময় এসেছে। তার ভাষায়, “যেখান থেকে এসেছে, সেই রাস্তা দিয়েই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।”

তার এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, সীমান্ত ও নাগরিকত্বের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বিজেপি নেতারা বলছেন, সীমান্ত সুরক্ষা ও বেআইনি অনুপ্রবেশ ঠেকানো একটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় এবং সরকার সেই দায়িত্বই পালন করছে।

শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশে বড় পরিবর্তন এসেছে। তার মতে, এতদিন রাজ্যে “তোষণের রাজনীতি” চলেছে, যা এখন বন্ধ হবে। তিনি বলেন, “আমি ভয় পাই না, মাথাও নোয়াই না। বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এই সরকার তা বাস্তবায়ন করবে।”

সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে এর আগেও তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর তিনি ঘোষণা দেন, ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের জন্য বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হবে। তার সরকার সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোরও উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে কলকাতার পার্ক সার্কাসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও তার বক্তব্যে গুরুত্ব পায়। রোববার (১৭ মে) পার্ক সার্কাস এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা, ইট-পাথর নিক্ষেপ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনার পরপরই ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সোমবার আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তার সরকার পুলিশের ওপর হামলা, গুণ্ডামি, চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট ও ভাঙচুর কোনোভাবেই সহ্য করবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জিরো টলারেন্স” নীতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আসানসোলে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যারা সরকারি সম্পদ নষ্ট করেছে তাদের কাছ থেকে “২০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ” আদায় করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক কঠোরতা ও জাতীয়তাবাদী অবস্থানের সমন্বয়ে নিজের রাজনৈতিক ব্র্যান্ড তৈরি করতে চাইছেন। বিশেষ করে সীমান্ত, অনুপ্রবেশ এবং ধর্মীয় রাজনীতির প্রশ্নে বিজেপির কেন্দ্রীয় অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তিনি রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছেন।

একই দিনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে দেওয়া ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্তও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকার ঘোষণা দিয়েছে, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য চালু থাকা ভাতা কর্মসূচি বাতিল করা হবে। এর পরিবর্তে সেই অর্থ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা হবে।

এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকারের কাজ ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাতা দেওয়া নয়, বরং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই অর্থ “বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ” প্রকল্পে ব্যয় করা হবে, যাতে সব ধর্মের মেধাবী শিক্ষার্থীরা সমানভাবে উপকৃত হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তকে একদিকে বিজেপি “সমতার নীতি” হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধীরা এটিকে সংখ্যালঘুবিরোধী পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছেন, নতুন সরকার বিভাজনের রাজনীতি করছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের ঝুঁকি তৈরি করছে।

সভায় শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, ভবানীপুরের একাধিক বুথে বিজেপি এগিয়ে ছিল এবং মমতা ব্যানার্জি নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটিতেও সমর্থন হারিয়েছেন। তিনি বলেন, “যে নেত্রী নিজের বুথে জিততে পারেন না, মানুষ তাকে দরজা দেখিয়ে দিয়েছে।”

একই সঙ্গে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee-সহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। যদিও তিনি এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি, তবে দাবি করেন যে তাদের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত হবে এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তার বক্তব্যে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে দ্রুত একটি হেল্পলাইন চালুর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার মতো কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না, নতুন সরকার সেই ঘাটতি পূরণ করবে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে বিজেপি সরকার নিজেদের কঠোর প্রশাসনিক অবস্থান তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক মেরুকরণের কৌশল হিসেবে দেখছে। সীমান্ত, নাগরিকত্ব, ধর্মীয় ভাতা এবং আইন-শৃঙ্খলা—সব মিলিয়ে নতুন সরকারের প্রথম দিককার পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যেই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।

বাংলাদেশেও শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও জামায়াত প্রসঙ্গে তার মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত