বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
  • ৩ বার
স্বর্ণের দাম বিশ্ববাজার পতন

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ববাজারে আবারও সামান্য পতন দেখা গেছে স্বর্ণের দামে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্ক ঘিরে নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। এরই মধ্যে মঙ্গলবার (১৯ মে) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্পট গোল্ডের দাম সামান্য হ্রাস পেয়েছে, যদিও মার্কিন ফিউচার বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক এক শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৫৬০.৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে জুন ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারস সামান্য বেড়ে ০.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৫৬৩.৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অস্থির ওঠানামা মূলত বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রতিফলন, যেখানে কেউই এখন বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নন।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের বাজারে সাম্প্রতিক এই স্থিতিশীলতা ও ক্ষুদ্র পতনের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির আংশিক স্বস্তি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান নীতিনির্ধারকদের ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য বাজারে প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, যাতে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ উন্মুক্ত থাকে। ইরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনে নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর পর এমন সিদ্ধান্ত এসেছে বলে জানা গেছে।

এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামেও পতন দেখা দেয়, যা দুই শতাংশের বেশি কমে যায়। তেলের দাম কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা হ্রাস পায়। সাধারণত মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে থাকেন, কারণ স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই চাপ কিছুটা কমে আসায় স্বর্ণের চাহিদায় সামান্য শিথিলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি খুব স্থায়ী নাও হতে পারে। কারণ বৈশ্বিক অর্থনীতি এখনও এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত অবস্থান নিয়ে বাজারে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের নজর এখন ফেডারেল রিজার্ভের এপ্রিল মাসের বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে, যা বুধবার প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নথি থেকে ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখার ইঙ্গিত দেয়, তাহলে ডলার শক্তিশালী হবে এবং স্বর্ণের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। কারণ স্বর্ণ সুদ প্রদান করে না, ফলে উচ্চ সুদের পরিবেশে এটি তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে। অন্যদিকে সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত পেলে স্বর্ণের চাহিদা আবারও বাড়তে পারে।

বাজার বিশ্লেষণ সংস্থাগুলো বলছে, বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের কৌশল অবলম্বন করছেন। বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত তারা নতুন বিনিয়োগে প্রবেশ করতে চাইছেন না। ফলে স্বর্ণের বাজারে এক ধরনের সীমিত ওঠানামা দেখা যাচ্ছে, যা মূলত স্বল্পমেয়াদি সমন্বয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও একই ধরনের মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভার ১.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৬.৬৩ ডলারে নেমে এসেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১,৯৬৯.৮৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি প্যালাডিয়ামের বাজারেও চাপ লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে দাম ১.২ শতাংশ কমে ১,৪০১.৭৪ ডলারে নেমেছে।

বিশ্ব অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই ধরনের ওঠানামা নতুন কিছু নয়। বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রানীতি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রতিফলন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উত্তেজনা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্ত এই বাজারকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে।

অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পরিস্থিতি এক ধরনের সতর্ক সংকেত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। স্বর্ণের দাম সামান্য কমলেও এটি এখনও ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। ফলে স্বল্পমেয়াদি পতনকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের এই সামান্য পতন একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের বাজার আবারও নতুন দিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত