ভূমিসেবা মেলা ২০২৬ উদ্বোধন, ডিজিটাল সেবায় নতুন ধাপ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে ভূমি প্রশাসনকে আরও আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে এ মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়, যেখানে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তারেক রহমানকে।

উদ্বোধনী আয়োজন ঘিরে ভূমি ভবন প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দেশের ভূমি সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই মেলা এবার আরও বিস্তৃত পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ”। এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হলো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে এনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ভূমি প্রশাসনের আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, ভূমি সংক্রান্ত সেবা একসময় সাধারণ মানুষের জন্য জটিল ও সময়সাপেক্ষ ছিল। কিন্তু ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হচ্ছে। অনলাইন ভূমি রেকর্ড, নামজারি, খতিয়ান যাচাই এবং অন্যান্য সেবা এখন ধীরে ধীরে সহজলভ্য হয়ে উঠছে। এই অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করতেই ভূমিসেবা মেলার আয়োজন।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই মেলার মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে ভূমি সেবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত ভূমি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা কমে আসে।

মেলায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্টল ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। বিশেষ করে অনলাইন সিস্টেম ব্যবহার করে কীভাবে ভূমি সংক্রান্ত আবেদন, নথি যাচাই এবং তথ্য সংগ্রহ করা যায়, সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক প্রদর্শনী রাখা হয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এবারের ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একযোগে আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে এই মেলা আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে। স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি এলাকায় একই ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও ভূমি সেবার সুবিধা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণভাবে অটোমেটেড করার পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই এগিয়ে চলছে। এর অংশ হিসেবে ভূমি রেকর্ড ডিজিটালাইজেশন, অনলাইন খতিয়ান ব্যবস্থা এবং ই-নামজারি সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে ভূমি সংক্রান্ত হয়রানি কমবে এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমি ব্যবস্থাপনা একটি দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সঠিক ভূমি নীতি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা না থাকলে অনেক সময় বিরোধ, জটিলতা ও অনিয়মের সৃষ্টি হয়। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই খাতকে আধুনিকীকরণ করা সময়ের দাবি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অতিথিরা বলেন, ভূমিসেবা মেলার মতো উদ্যোগ জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করে। এতে একদিকে যেমন জনগণ সরাসরি সেবা সম্পর্কে জানতে পারে, অন্যদিকে প্রশাসনও মানুষের বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ পায়।

অনুষ্ঠানে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ভূমি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল রূপান্তর শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি প্রশাসনিক সংস্কার প্রক্রিয়া। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

মেলার পরিবেশে দেখা যায়, সাধারণ মানুষও বিভিন্ন স্টলে ভিড় করছেন এবং ভূমি সেবার নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তরুণ প্রজন্ম বিশেষভাবে অনলাইন সেবার প্রতি বেশি আগ্রহী বলে জানা যায়। অনেকেই জানান, ডিজিটাল সেবা চালু হওয়ায় এখন ভূমি সংক্রান্ত কাজ আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে গেছে।

সরকারি পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই ধরনের মেলা নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হলে জনগণের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়বে এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারিত হবে।

সব মিলিয়ে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, বরং একটি পরিবর্তনের বার্তা, যা ভবিষ্যতের ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত