প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জনপ্রিয় চ্যাট প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার চালু করেছে ওপেনএআই। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে এখন থেকে ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করা ফাইল দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করতে পারবেন, যা আগে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট চ্যাট সেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন ব্যবহারকারীদের কাজের গতি ও কার্যকারিতা বাড়াবে, বিশেষ করে শিক্ষার্থী, গবেষক, ফ্রিল্যান্সার এবং কর্পোরেট ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারী কোনো ফাইল আপলোড করলে তা আর চ্যাট শেষ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে না। বরং সেগুলো একটি পৃথক ডিজিটাল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত থাকবে, যেখানে ব্যবহারকারী পরবর্তী যেকোনো কথোপকথনে সহজেই সেই ফাইল পুনরায় ব্যবহার করতে পারবেন। এর ফলে বারবার একই ফাইল আপলোড করার প্রয়োজন হবে না।
ওপেনএআই জানিয়েছে, এই ফিচারটি বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট ফরম্যাট সাপোর্ট করবে। এর মধ্যে স্প্রেডশিট, প্রেজেন্টেশন ফাইল, টেক্সট ডকুমেন্টসহ নানা ধরনের ফাইল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী চ্যাটজিপিটি এসব ফাইল সংরক্ষণ করবে এবং ভবিষ্যতের প্রশ্ন বা কাজের ক্ষেত্রে সেগুলো রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের ফলে এআই ব্যবহারের ধরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। আগে যেখানে প্রতিবার নতুন করে তথ্য দিতে হতো, এখন সেখানে একবার আপলোড করা তথ্য দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করা যাবে, যা কাজের সময় ও শ্রম দুটোই কমাবে।
নতুন ফিচারটিতে ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা স্টোরেজ সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। ফ্রি ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ৫০০ মেগাবাইট পর্যন্ত ফাইল সংরক্ষণ করতে পারবেন। অন্যদিকে প্রিমিয়াম এবং সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ব্যবহারকারীদের জন্য এই সীমা আরও বেশি রাখা হয়েছে, যেখানে উচ্চতর স্তরের ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ১০০ গিগাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ সুবিধা পাবেন।
এই সুবিধা মোবাইল অ্যাপ এবং ওয়েব—উভয় প্ল্যাটফর্মেই ব্যবহার করা যাবে। ব্যবহারকারীরা সেটিংস মেনুতে গিয়ে নতুন স্টোরেজ অপশন দেখতে পারবেন, যেখানে আলাদা লাইব্রেরি যুক্ত থাকবে। সেই লাইব্রেরিতে আপলোড করা সব ফাইল এক জায়গায় সংরক্ষিত থাকবে এবং সহজেই ব্যবস্থাপনা করা যাবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পরিষেবাকে আরও ব্যক্তিগত ও ব্যবহারবান্ধব করে তুলবে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত বড় আকারের ডকুমেন্ট নিয়ে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি সময় সাশ্রয়ী একটি সমাধান হয়ে উঠতে পারে।
ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার পাশাপাশি এই ফিচার ডেটা ব্যবস্থাপনাকে আরও সংগঠিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ক্লাউড-ভিত্তিক ফাইল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে এআই প্রযুক্তিকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করবে।
অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক করে বলেছেন, ফাইল সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেটা নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়টিও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে ওপেনএআইয়ের এই নতুন ফিচারটি চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকে আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্ষমতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও উন্নত সুবিধা যুক্ত হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দৈনন্দিন জীবনে আরও গভীরভাবে প্রবেশ করবে।