ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ ৭ দিন, বিশেষ ব্যবস্থা পোশাক খাতে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ ৭ দিন, বিশেষ ব্যবস্থা পোশাক খাতে

প্রকাশ: ১৯ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে Bangladesh Bank। ঈদের ছুটি, বেতন-বোনাস পরিশোধ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং গ্রাহকসেবাকে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন লেনদেন সময়সূচি ঘোষণা করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টানা সাত দিনের ছুটি থাকবে। তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে সীমিত আকারে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখা হবে।

সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আগামী শনিবার (২৩ মে) ও রবিবার (২৪ মে) ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা স্বাভাবিক সময়সূচিতে খোলা থাকবে। এরপর সোমবার (২৫ মে) থেকে রবিবার (৩১ মে) পর্যন্ত টানা সাত দিন সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশে ঈদুল আজহার সময় প্রতিবছরই নগদ অর্থের লেনদেন, বেতন-বোনাস প্রদান, কোরবানির পশু কেনাবেচা এবং ব্যবসায়িক লেনদেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প খাতে শ্রমিকদের বেতন ও উৎসব ভাতা পরিশোধকে কেন্দ্র করে ব্যাংকিং খাতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এবারও বিশেষ ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, আশুলিয়া, টঙ্গী, সাভার ও ভালুকাসহ শিল্পঘন এলাকাগুলোতে পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখা সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। আগামী ২৫ ও ২৬ মে এসব শাখায় সীমিত জনবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এবং গ্রাহক লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে তৈরি পোশাক শিল্প খাতে বেতন ও বোনাস পরিশোধ সময়মতো সম্পন্ন না হলে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। তাই শিল্পাঞ্চলে সীমিত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে যাতে কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি না হয়, সে বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ঈদের সময়েও কিছু জরুরি আর্থিক কার্যক্রম চালু রাখতে হয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংক পুরোপুরি বন্ধ থাকলে এলসি নিষ্পত্তি, পণ্য খালাস, ডকুমেন্ট প্রসেসিংসহ বিভিন্ন কাজে বিলম্ব হয়। তাই সীমিত পরিসরে হলেও ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির খবর।

অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও ঈদের আগের দুই দিন ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কারণ ঈদের আগে পরিবার-পরিজনের জন্য কেনাকাটা, গ্রামে টাকা পাঠানো, কোরবানির পশু কেনা কিংবা বিভিন্ন আর্থিক প্রস্তুতির জন্য ব্যাংকে লেনদেন বাড়ে। অনেকেই শেষ মুহূর্তে নগদ অর্থ উত্তোলন কিংবা চেক নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ফলে ছুটি শুরুর আগে স্বাভাবিক সময়সূচিতে ব্যাংক খোলা থাকায় গ্রাহকদের চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যাংকারদের মতে, বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন লেনদেনের ব্যবহার অনেক বেড়ে গেলেও দেশের বড় একটি অংশ এখনও সরাসরি ব্যাংক শাখার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক শাখা খোলা রাখা জরুরি হয়ে পড়ে। এ কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ঈদে পরিস্থিতি বিবেচনায় আলাদা সময়সূচি নির্ধারণ করে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং শিল্পখাতের প্রয়োজন বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ঈদুল আজহাকে ঘিরে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নগদ প্রবাহ তৈরি হয়। কোরবানির পশুর হাট, পরিবহন, পোশাক, খাদ্যপণ্য এবং খুচরা বাজারে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয় কয়েক দিনের মধ্যে। ফলে ব্যাংকিং খাতকে সচল রাখা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এদিকে ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে এটিএম বুথ, মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবাও সচল রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক ইতোমধ্যে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। যাতে ছুটির সময় গ্রাহকরা নগদ অর্থ উত্তোলনে সমস্যায় না পড়েন।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের সময় গ্রাহকদের চাপ সামাল দিতে শুধু শাখা খোলা রাখাই যথেষ্ট নয়, প্রযুক্তিনির্ভর সেবাও কার্যকর রাখতে হবে। কারণ বর্তমানে শহরাঞ্চলের বড় অংশ মোবাইল অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ঈদের কেনাকাটায় ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়ছে।

শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের মধ্যেও এবার বেতন-বোনাস নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, সময়মতো বেতন ও বোনাস পরিশোধ হলে ঈদযাত্রা এবং উৎসব আয়োজন নির্বিঘ্ন হবে। ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত সেই প্রক্রিয়াকে সহজ করবে।

সামগ্রিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে ঈদপূর্ব অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখার একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও শিল্প, বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনায় সীমিত ব্যাংকিং সেবা চালু রাখার পরিকল্পনা অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত