প্রকাশ: ২৮শে জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সোমবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর সামনে যুবদলের গ্রাফিতি আর্টিস্ট উদ্বোধনকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার প্রতিমুহূর্তে সংস্কারের কথা বলছেন। কিন্তু তারা ইনডাইরেক্টলি রাজনৈতিক দলগুলোকে দোষারোপ করার চেষ্টা করছেন এবং বলছেন আমরা সহযোগিতা করছি না। তিনি বলেন, তাদের এ কথাগুলো ঠিক নয়, কারণ আমরা সর্বক্ষণ তাদের সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে সহযোগিতা করছি এবং সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, শেখ হাসিনার বিচারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কিছু দেখতে পাননি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান এক বছর পূর্ণ হলেও হাসিনার বিচরের কাজ এখনও শুরু হয়নি, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তিনি।
তিনি বলেন, এমন কিছু বিষয় নিয়ে আমরা তর্ক-বিতর্ক করছি, নিজেদের মধ্যে কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছি, যা বাংলাদেশকে পিছিয়ে ফেলতে পারে এবং ফ্যাসিস্টদের শক্তি জোগাতে পারে। নতুন করে ফ্যাসিস্টদের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা, খুন-গুম, নির্যাতন-নিপীড়ন করা হয়েছে। গত জুলাই মাসেও নেতাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি অফিসে নিয়ে গিয়ে নির্মম অত্যাচার করা হয়েছে। তবে কেউ আত্মসমর্পণ করেনি বা মুচলেকা দেয়নি।
তিনি বলেন, টেলিভিশন ও পত্র-পত্রিকায় ডিবি অফিসের ছবি দেখানো হলেও নেতাকর্মীদের নখ তুলে নেয়া, হাত ভাঙিয়ে দেয়া, ঝুলিয়ে পেটানোর ছবি গণমাধ্যমে আসে না। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাদা কালো স্পষ্ট বলুন এবং যার অবদান আছে তা স্বীকার করুন। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে যুবদলের ৭৯ জন ও ছাত্রদলের ১৪২ জন শহীদ হয়েছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবাই রাস্তায় নেমেছিল, শুধুমাত্র কয়েকটি দল বা কয়েকজন নয়, পাঁচ বছরের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধ মানুষ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সেদিন রাস্তায় নেমেছিল।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে পরিত্যক্ত কারাগারে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু আজ সেই বিষয়ে কেউ কথা বলেন না। দেশে গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়া জীবনের সবকিছু ত্যাগ করেছেন। তিনি খালেদা জিয়াকে নিয়ে কথা বলার আহ্বান জানান।