রোনালদোকে ঘিরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পর্তুগালের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
  • ৪৪ বার
এবার রোনালদোর জন্য বিশ্বকাপ চায় পর্তুগাল

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, প্রত্যাশা আর ইতিহাসের পুনর্লিখন। প্রতিবারের মতো এবারও ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বের উত্তেজনা তুঙ্গে। আর এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে এবারও আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল জাতীয় দলে তার শেষ বিশ্বকাপকে ঘিরে সতীর্থদের স্বপ্ন আরও বড় হয়ে উঠেছে—এবার তারা কেবল অংশ নিতে নয়, বরং রোনালদোর জন্যই বিশ্বকাপ জিততে চায়।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে পর্তুগাল মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া বলেন, রোনালদো শুধু একজন খেলোয়াড় নন, বরং পুরো দলের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। তার ভাষায়, “সে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তার সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়া এবং প্রতিদিন তার পেশাদার মানসিকতা দেখা আমাদের জন্য বড় শিক্ষা।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু নিজেদের জন্য নয়, তার সঙ্গে এবং তার জন্যই বিশ্বকাপ জিততে চাই। তবে জানি, কাজটা সহজ হবে না। তাই আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে।”

বিশ্বকাপ ঘিরে পর্তুগাল দলে যে আবেগ তৈরি হয়েছে, তা অনেকেই তুলনা করছেন অতীতের বিভিন্ন সফল দলের সঙ্গে। যেমন কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা শিরোপা জয়ের আগে দলটি নিজেদের অনুপ্রেরণা হিসেবে লিওনেল মেসিকে সামনে রেখেছিল। সেই টুর্নামেন্টে লিওনেল স্ক্যালোনির দল প্রকাশ্যেই জানিয়েছিল, তারা শুধু আর্জেন্টিনার জন্য নয়, মেসির স্বপ্ন পূরণের জন্যও খেলতে চায়। শেষ পর্যন্ত সেই আবেগই তাদের শিরোপার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

পর্তুগাল দলে এখন একই ধরনের আবেগ দেখা যাচ্ছে রোনালদোকে ঘিরে। বয়স ৪০-এর কাছাকাছি হলেও মাঠে তার প্রভাব, ফিটনেস এবং নেতৃত্ব এখনও আগের মতোই শক্তিশালী। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে খেলা এই তারকা ফুটবলারের পেশাদার জীবনধারা এখনো তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য উদাহরণ।

ভিতিনিয়া বলেন, “রোনালদো কোনো কিছুই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেন না। তিনি প্রতিটি ম্যাচের আগে এমনভাবে প্রস্তুতি নেন যেন সেটিই তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এই মানসিকতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।”

পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজের অধীনে দলটি এখন একটি নতুন ভারসাম্য খুঁজছে, যেখানে অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির সমন্বয় ঘটছে। রোনালদোর নেতৃত্বে দলটি কেবল ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর নির্ভর করছে না, বরং দলগত কৌশলকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল রয়েছে ‘কে’ গ্রুপে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে কলম্বিয়া, ডিআর কঙ্গো ও উজবেকিস্তান। কাগজে-কলমে তুলনামূলক সহজ গ্রুপ হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোনালদোর ভবিষ্যৎ ও শেষ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে পুরো স্কোয়াডে আলাদা ধরনের আবেগ কাজ করছে। তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে তাকে ঘিরে বাড়তি অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে, যা কোচিং স্টাফও ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, রোনালদোর উপস্থিতি কেবল মাঠে গোল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার মানসিক দৃঢ়তা পুরো দলকে একত্রিত করে রাখে। বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা পর্তুগালের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

অনেকেই মনে করছেন, এটি রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। সেই কারণে পর্তুগালের প্রতিটি ম্যাচই হতে পারে আবেগ, ইতিহাস এবং বিদায়ের এক বিশেষ অধ্যায়।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে দলগুলো যখন নিজেদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন পর্তুগালের লক্ষ্য এখন একটাই—রোনালদোর হাত ধরে ইতিহাস লেখা। তাদের চোখে এটি শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং একটি কিংবদন্তির শেষ অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখার সুযোগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com