ঈদের আগে সীমিত ব্যাংকিং, পরে টানা সাত দিনের বন্ধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ৩২ বার
ঈদের আগে সীমিত ব্যাংকিং, পরে টানা সাত দিনের বন্ধ

প্রকাশ:  ২২ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের ব্যাংকিং খাতে শুরু হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি ও সময়সূচি সমন্বয়। আসন্ন ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী টানা সাত দিন দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে ঈদের আগে সাধারণ মানুষের লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে আগামী শনিবার ও রোববার ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে গ্রাহকরা ঈদের আগে হাতে মাত্র দুই কার্যদিবস সময় পাচ্ছেন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের জন্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজারি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) থেকে জারি করা সাম্প্রতিক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় আগামী ২৩ মে শনিবার এবং ২৪ মে রোববার দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে। ওই দুই দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম আগের মতোই পূর্ণমাত্রায় চলবে এবং গ্রাহক সেবা স্বাভাবিক থাকবে।

এরপর ২৫ মে সোমবার থেকে শুরু হয়ে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত টানা সাত দিন দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করেই এই দীর্ঘ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ঈদের আগে ও পরে আর্থিক লেনদেন, চেক ক্লিয়ারিং, আন্তঃব্যাংক ট্রান্সফারসহ সব ধরনের সেবা পরিচালনায় একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলতে হবে।

তবে পোশাক শিল্প ও রপ্তানিমুখী অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত বিবেচনায় নিয়ে কিছু বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করতে এবং রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রম সচল রাখতে নির্দিষ্ট শিল্পাঞ্চলগুলোতে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে। ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের মতো শিল্পঘন এলাকাগুলোতে পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখাগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় লেনদেন পরিচালিত হবে।

এই বিশেষ ব্যবস্থায় ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে সীমিত সময়সূচিতে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং গ্রাহক লেনদেন গ্রহণ করা হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এসব এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ব্যাংকগুলোকে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শ্রমিকদের বেতন ও উৎসব ভাতা সময়মতো পরিশোধ করা সম্ভব হয় এবং রপ্তানি কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোয় পোশাক শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ঈদ মৌসুমে এই খাতে বেতন-বোনাস পরিশোধের চাপ বেড়ে যায়, ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্তকে অর্থনীতিবিদরা একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২৫ ও ২৬ মে বিশেষ ব্যবস্থায় পরিচালিত ব্যাংকিং কার্যক্রমে বিভিন্ন আন্তঃব্যাংক লেনদেন ব্যবস্থা যেমন বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস (বিএসিএইচ) এবং রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) নতুন সময়সূচিতে পরিচালিত হবে। এতে জরুরি আর্থিক লেনদেন নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

আরটিজিএসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আন্তঃব্যাংক অর্থ স্থানান্তর সকাল ১০টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত চালু থাকবে। একইভাবে আন্তঃব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার এবং রিটার্ন প্রসেসিং দুপুর ১টা পর্যন্ত সম্পন্ন করা যাবে। অন্যদিকে বিএসিএইচ ব্যবস্থায় হাই ভ্যালু চেক ক্লিয়ারিংয়ের জন্য চেক পাঠানোর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এবং এসব চেক নিষ্পত্তি হবে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে।

সাধারণ ভ্যালু চেক ক্লিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে দুপুর ১২টার মধ্যে চেক পাঠাতে হবে এবং তা দুপুর ১টার মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। এই সময়সূচি অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে ঈদের আগে আর্থিক লেনদেনে কোনো ধরনের জটিলতা বা বিলম্ব না ঘটে।

অন্যদিকে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও বুথগুলোকে আগের নির্দেশনা অনুযায়ী সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে এই শাখাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঈদের ছুটির মধ্যেও এসব এলাকায় সীমিত পরিসরে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সরকারি ছুটির সময় ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ভাতা প্রদান করা হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে। এতে করে জরুরি সেবা চালু রাখতে ব্যাংক কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ঈদকে সামনে রেখে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাংকিং লেনদেন নিয়ে কিছুটা চাপ ও ব্যস্ততা দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নগদ উত্তোলন, প্রবাসী আয় গ্রহণ, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং ঈদ বাজারকেন্দ্রিক আর্থিক চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ব্যাংকে ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই গ্রাহকদের সময়মতো প্রয়োজনীয় লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা আগেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ব্যাংকিং খাতে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং বিশেষ ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন দীর্ঘ ছুটির কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনীতির গতি বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত