কম খেলেও কেন বাড়ছে শরীরের ওজন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ১৩ বার
কম খেলেও কেন বাড়ছে শরীরের ওজন

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অনেকেই মনে করেন বেশি খাবার খাওয়াই ওজন বৃদ্ধির একমাত্র কারণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শরীরের ওজন বৃদ্ধি সবসময় অতিরিক্ত খাবারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। অনেক সময় স্বাভাবিক বা কম খাবার গ্রহণের পরও হঠাৎ করে ওজন বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের ভেতরের নানা পরিবর্তন, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব কিংবা কিছু শারীরিক জটিলতার কারণেও অস্বাভাবিকভাবে ওজন বাড়তে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাপনে বড় কোনো পরিবর্তন না থাকা সত্ত্বেও যদি দ্রুত ওজন বাড়তে শুরু করে, তাহলে সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যদি অল্প সময়ের মধ্যে শরীরের ওজন অস্বাভাবিক হারে বাড়ে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা এই পরিবর্তনের জন্য দায়ী হতে পারে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের বিপাকক্রিয়ার পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক বিষয়। বয়স বাড়লে শরীরের মেটাবলিজম ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ফলে শরীর আগের তুলনায় কম ক্যালরি পোড়াতে পারে। একই সঙ্গে মাংসপেশির পরিমাণ কমে যায় এবং শরীরে চর্বি জমার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তাই আগের মতোই খাবার গ্রহণ করলেও অনেকের ওজন বাড়তে শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও কারও কারও ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি দেখা যায়।

হরমোনজনিত পরিবর্তনও ওজন বৃদ্ধির বড় কারণ হতে পারে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরে হরমোনের ওঠানামা ঘটে এবং সেটি ওজনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বয়ঃসন্ধিকালে শরীরের দ্রুত বৃদ্ধি ও শারীরিক পরিবর্তনের কারণে ওজন বাড়া স্বাভাবিক। নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের আগে শরীরে অতিরিক্ত পানি জমার কারণে সাময়িকভাবে ওজন বৃদ্ধি অনুভূত হতে পারে। একইভাবে গর্ভাবস্থায় শিশুর বৃদ্ধি ও শারীরিক পরিবর্তনের কারণে ওজন বাড়া স্বাভাবিক বিষয়। আবার মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করতে পারে।

মানসিক চাপও ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপে থাকলে শরীরে কর্টিসল নামের একটি হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোন বিশেষ করে পেটের অংশে চর্বি জমাতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মিষ্টি বা চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে অনেকেই অজান্তেই ওজন বৃদ্ধির সমস্যায় পড়েন।

অন্যদিকে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে এবং ধীরে ধীরে শরীরে অতিরিক্ত ওজন জমতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত কম ঘুম শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়াকেও প্রভাবিত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।

কিছু শারীরিক সমস্যাও হঠাৎ ওজন বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে যাওয়ার মতো সমস্যার কারণে অনেক সময় ওজন দ্রুত বেড়ে যায়। এছাড়া বিষণ্নতা বা মানসিক স্বাস্থ্যের কিছু জটিলতাও শরীরের ওজনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

চিকিৎসকরা আরও বলছেন, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ওজন বাড়তে পারে। বিশেষ করে মানসিক অবসাদ কমানোর ওষুধ, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কিছু ওষুধ এবং কর্টিকোস্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে শরীরে চর্বি জমার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ ওজন বাড়লে নিজেকে দায়ী না করে প্রথমে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। কারণ ওজন বৃদ্ধি সবসময় অতিরিক্ত খাবারের কারণে হয় না। অনেক সময় শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনই এর জন্য দায়ী থাকে। তাই অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া, নির্দিষ্ট পরিমাণে খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করাও জরুরি। মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান বা যোগব্যায়ামও উপকারী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের হঠাৎ পরিবর্তনকে অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ শরীর অনেক সময় ভেতরের সমস্যার সংকেত আগেভাগেই জানিয়ে দেয়। তাই ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকলে তার কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত