যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড নীতিতে বড় পরিবর্তন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬
  • ৯ বার
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড নীতিতে বড় পরিবর্তন

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। নতুন নীতির ফলে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের আর দেশটির ভেতরে থেকে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকছে না। এখন থেকে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হলে তাদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসী মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত শিক্ষার্থী, কর্মজীবী এবং আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা U.S. Citizenship and Immigration Services এক নীতিগত নির্দেশনার মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। নির্দেশনায় বলা হয়, অভ্যন্তরীণভাবে গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়া সীমিত করার মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হবে।

অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের “ফাঁকফোকর” বন্ধ করা সম্ভব হবে। তাদের দাবি, নতুন নিয়ম চালু হলে প্রশাসনিক চাপ কমবে এবং বিভিন্ন ধরনের আবেদন আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে নিষ্পত্তি করা যাবে। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থায় অপব্যবহার রোধ করাও এই পরিবর্তনের অন্যতম লক্ষ্য।

তবে নতুন এই নীতি মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসী সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত অনেক ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করবে, বিশেষ করে যারা যুদ্ধ, সহিংসতা বা নির্যাতন থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের জন্য এটি বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে।

অভিবাসী ও শরণার্থীদের সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘হায়াস’ (HIAS) এই সিদ্ধান্তকে “অমানবিক” বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির মতে, নতুন নিয়মের ফলে অনেককে বাধ্য হয়ে আবার সেইসব দেশে ফিরে যেতে হবে, যেখান থেকে তারা প্রাণভয়ে পালিয়ে এসেছিলেন। এতে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি, নির্যাতিত নারী ও শিশু এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীরা আরও বিপদের মুখে পড়তে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump ক্ষমতায় আসার পর থেকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন নীতিকে সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন শিক্ষার্থী ভিসা, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির ভিসা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভিসার মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছিল। এমনকি পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় এই বড় পরিবর্তন আনা হলো।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন নিয়ম বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন যারা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ বা পড়াশোনা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ফলে চাকরি হারানো বা শিক্ষাজীবনে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি তৈরি হবে।

একই সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পরিবারগুলোর মধ্যেও বিভক্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ অনেক আবেদনকারীকে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হলে সাময়িকভাবে দেশ ছাড়তে হবে, যা তাদের পারিবারিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে সেসব ক্ষেত্রে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে। এতে করে প্রক্রিয়াটি আরও কঠোর ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নজর কাড়ছে। বিশেষ করে যেসব দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের জন্য আবেদন করেন, সেখানে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য এই পরিবর্তন বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন ব্যবস্থায় অনিয়ম ও জটিলতা ছিল। নতুন নিয়ম সেই জটিলতা কমাতে সহায়তা করবে এবং প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করবে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, বাস্তবে এই নীতি মানবিক সংকট আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যারা নিরাপত্তাহীনতা থেকে পালিয়ে এসেছেন, তাদের আবার ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ফেরত পাঠানো নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

বর্তমানে নতুন এই নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। অভিবাসী সম্প্রদায় থেকে শুরু করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো পর্যন্ত সবাই এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। আগামী দিনগুলোতে এই নীতির বাস্তবায়ন কতটা কঠোর হয় এবং প্রশাসন কী ধরনের ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেয়, সেটিই এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত