নিউইয়র্কের ড্রাই ডকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬
  • ৯ বার
নিউইয়র্কের ড্রাই ডকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের New York City-এর স্টেটেন আইল্যান্ড এলাকায় একটি ড্রাই ডকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৬ জন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক দমকলকর্মী, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের অভিযান।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টেটেন আইল্যান্ড বরোর রিচমন্ড টেরেস এলাকায় একটি ড্রাই ডকের বেসমেন্টে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার সময় সেখানে দুইজন কর্মী আটকা পড়েছিলেন বলে খবর পাওয়া যায়। এরপর জরুরি সেবা বিভাগে ফোন করা হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল। কিন্তু উদ্ধার অভিযান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ এক বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের কয়েকটি ভবনের জানালাও কেঁপে ওঠে। কেউ কেউ প্রথমে এটিকে ভূমিকম্প ভেবে আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। বিস্ফোরণের পরপরই চারদিকে ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

উদ্ধারকর্মীরা জানান, আগুনের ভেতর আটকে পড়া কর্মীদের উদ্ধারে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই ঘটে বিস্ফোরণ। এতে দমকল বাহিনীর সদস্যসহ বহু মানুষ আহত হন। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে দুই দমকলকর্মীর অবস্থা বিশেষভাবে গুরুতর। তাদের একজন ফায়ার মার্শাল, যিনি বিস্ফোরণের সময় সামনের সারিতে থেকে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছিলেন। বিস্ফোরণে তার কানের পাশের হাড় ভেঙে যায় এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বর্তমানে তাকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়তায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অন্য গুরুতর আহত দমকলকর্মীর অবস্থাও সংকটাপন্ন হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে।

দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি একজন বেসামরিক নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে তার পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। নিহত ব্যক্তির পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার পরপরই এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। আশপাশের কয়েকটি ভবন খালি করে দেওয়া হয় নিরাপত্তার স্বার্থে। গ্যাসলাইন, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো পরীক্ষা করতে ঘটনাস্থলে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।

নিউইয়র্কের মেয়র Zohran Mamdani ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, এটি ছিল অত্যন্ত জটিল এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল জরুরি পরিস্থিতি। তিনি উদ্ধারকর্মীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, “তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্য মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করেছেন। নিউইয়র্ক শহর তাদের এই আত্মত্যাগ কখনও ভুলবে না।”

মেয়র আরও জানান, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বেসমেন্ট এলাকায় জমে থাকা দাহ্য গ্যাস বা রাসায়নিক পদার্থ থেকে বিস্ফোরণটি ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রাই ডক বা জাহাজ মেরামত কেন্দ্রগুলোতে প্রায়ই দাহ্য পদার্থ, গ্যাস সিলিন্ডার ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সামান্য ত্রুটিও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় এমন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে গিয়ে উদ্ধারকর্মীরাও হতাহত হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সময় তারা আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের পর আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে এবং জরুরি যানবাহনের সাইরেন বেজে উঠেছে পুরো এলাকায়।

নিউইয়র্ক দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহত দমকলকর্মীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হবে। এখনও কিছু অংশে ধোঁয়া ও তাপমাত্রা বেশি থাকায় তদন্তকারীদের কাজেও সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর প্রকাশের পর পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দমকল ও জরুরি সেবাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্ধার অভিযানের সময় নিরাপত্তা প্রটোকল আরও জোরদার করা প্রয়োজন, বিশেষ করে শিল্প এলাকা ও ড্রাই ডকের মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে।

এই মর্মান্তিক বিস্ফোরণ শুধু নিউইয়র্ক নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই একটি সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। দ্রুত শিল্পায়ন ও ব্যস্ত নগর জীবনের মাঝে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামান্য অবহেলাও যে কত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, স্টেটেন আইল্যান্ডের এই দুর্ঘটনা আবারও সেটিই স্মরণ করিয়ে দিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত