নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু, দেড় লাখ পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৪২ বার
নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু, দেড় লাখ পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে

প্রকাশ: ২৮শে জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশে শুরু হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি। প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ইতিমধ্যেই নানা উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা চলবে অক্টোবর ও নভেম্বর পর্যন্ত। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা নির্বাচনের সময় বলিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।

আজ সোমবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচনের সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে ৬০ হাজার সেনাসদস্যও মোতায়েন থাকবে, যারা ইতিমধ্যেই ৫ আগস্ট থেকে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন এবং বিচারিক ক্ষমতাও ব্যবহার করতে পারবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হবে।

একই সঙ্গে নির্বাচনের সময় ভুয়া তথ্য ও গুজব ঠেকাতে ‘ন্যাশনাল ইনফরমেশন সেন্টার’ গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। শফিকুল আলম বলেন, এই কেন্দ্র গুজব শনাক্ত করে দ্রুত প্রতিরোধ করবে এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও জনগণের সামনে তুলে ধরবে।

এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা কমান্ড কাঠামোর অধীনে একটি নতুন মিডিয়া উইং তৈরির প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। এর মাধ্যমে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং এবং জরুরি তথ্য প্রকাশ করা হবে।

গোপালগঞ্জসহ কিছু জায়গায় সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার আগাম তথ্য দিতে না পারা প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ব্যর্থতা এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আরও সমন্বিতভাবে এবং আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে নির্বাচনপূর্ব সময়ে প্রশাসনিক রদবদল নিয়েও আলোচনা হয়। উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্ভাব্য সহিংসতার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা— ‘হটস্পট’— দ্রুত চিহ্নিত করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

দিনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, রাজনৈতিক সংলাপ ও শুল্ক নিয়ে আলোচনা হয়। রাতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং প্রশাসনের শক্ত সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশ একটি নিরাপদ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত